সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা: ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজে দুই বছর ধরে বেতন–ভাতা বন্ধ

রেজাউল হক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা: ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজে দুই বছর ধরে বেতন–ভাতা বন্ধ

কিশোরগঞ্জের ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে দুই বছরের বেশি সময় ধরে নন-এমপিওভুক্ত ২৯ শিক্ষক ও ১২ কর্মচারী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ।

শিক্ষক–কর্মচারীরা জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিনা কারণে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং বেতন-ভাতা বন্ধ রাখেন। ফলে দুই বছরের বেশি সময় ধরে তারা এক টাকাও পাননি।

১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ১৯৮৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন। কলেজটির বার্ষিক আয় প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ এবং ব্যয় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অভিযোগকারী শিক্ষক–কর্মচারীদের দাবি, ফান্ডের ঘাটতি নেই; বরং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সঠিক হিসাব গোপন রাখছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক শিক্ষক বলেন,
“দুই বছরের বেশি সময় ধরে বেতন পাই না। তিনি কলেজে নিয়মিত আসেন না, দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে নিয়োগও দেন না। গুরুত্বপূর্ণ কাজেও তাকে পাওয়া যায় না।”

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত করে, তবে শিক্ষক সংকট হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএর অনুমোদনে পূর্ণকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারে। ভুক্তভোগীরা বলেন,
“শুধু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সদিচ্ছার অভাবেই আমরা বেতন পাচ্ছি না। তিনি বলেন ফান্ড নেই, অথচ হিসাব বলছে বিপরীত কথা। দেশে আর কোনো কলেজে বিনা বেতনে চাকরি করতে হয় না।”

কলেজের অভিভাবক সদস্য আবু নাসের মিন্টু হিলালি বলেন,
“টাকা আছে, তারপরও বেতন দেয় না কেন—এটা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতির স্পষ্ট করা উচিত। তিনি সপ্তাহে একদিনও অফিসে আসেন না। ফোন করলে ধরেন না।”

দাতাসদস্য কামরুজ্জামান সোহেল বলেন,
“মাসের পর মাস কলেজে আসেন না ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। নিয়মিত মিটিং করেন না। এভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।”

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূরুন নাহার চায়না জানান, নন-এমপিও শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রতিবেদন গ্রহণ না করে নতুন কমিটি গঠন করতে বলেন। তিনি বলেন—
“মিটিং ডাকা হয়েছিল, কিন্তু সেটিও বাতিল করা হয়। বর্তমান অবস্থা কী—জানি না।”

গভর্নিং বডির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতন বলেন,
“কলেজটি আগের প্রশাসন জিরো পজিশনে নিয়ে গেছে। কোনো ফান্ডিং নেই। এই অবস্থায় কিছুই করতে পারছি না। আমি জরুরি মিটিং ডেকে বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করবো।”

অভিযোগ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,
“অপরিকল্পিত নিয়োগের কারণে কলেজে শিক্ষকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। ছাত্রসংখ্যা বর্তমানে ৩ হাজার ৫০০–এর নিচে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় ১২০ শিক্ষকের বেতন দেওয়া সম্ভব নয়। গত তিন বছরে দেড় বছরের বেতন দিতে পারিনি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ৪ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছি। কাউকে দুর্ব্যবহার করিনি।”

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার বলেন,
“কলেজটির নিজস্ব গভর্নিং বডি রয়েছে। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত। এরপরও অভিযোগ পেলে আমরা তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো।”


আজ চান্দিনায় ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন, আসছেন হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেমরা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
আজ চান্দিনায় ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন, আসছেন হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেমরা

কুমিল্লার চান্দিনায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চান্দিনা থানা কওমী মাদরাসা সংগঠনের উদ্যোগে ২৬তম বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন। সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও ইসলামী বক্তাদের উপস্থিতি ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আয়োজকদের প্রকাশিত পোস্টার অনুযায়ী, ২ নভেম্বর, সোমবার দুপুর ২টায় চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনে বয়ান পেশ করার কথা রয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মাওলানা রেজাউল করীম আবরার, আল্লামা নুরুল ইসলাম অলিপুরী এবং মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীর।

এছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন আল্লামা নুরুল হক, আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, আল্লামা আশেকে এলাহী, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা নজিব আহমদ, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সিরাজী, মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মুফতি দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ ও মুফতি রেজাউল করীম আবরারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট আলেম-ওলামাগণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন হাফেজ মাওলানা আহমাদুল্লাহ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মাওলানা এমদাদ উল্লাহ খান।

উল্লেখ্য, চান্দিনা থানা কওমী মাদরাসা সংগঠন সফলতার সঙ্গে ৩৪ বছর পথচলা অতিক্রম করেছে। সংগঠনটির ২৬তম বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এ সম্মেলনে দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে চান্দিনা ও আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যথাসময়ে সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্মেলনের স্থান: চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, চান্দিনা, কুমিল্লা।সময়: দুপুর ২টা। তারিখ: ২৬ নভেম্বর, সোমবার (পোস্টারের তথ্য অনুযায়ী)।

আলিম পরীক্ষায় তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২ জন!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
আলিম পরীক্ষায় তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২ জন!

কুমিল্লার চান্দিনা থানার তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এবারের আলিম পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাস করেছে মাত্র ২ জন। সে হিসাবে পাসের হার মাত্র ২০ শতাংশ।

এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জনই অকৃতকার্য হওয়ায় এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, পাঠদানে অনিয়মসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ক্লাস বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহনের অভিযোগ তুলছেন অনেকে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলের পেছনে প্রকৃত কারণ কী? শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ঘাটতি, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, নাকি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কোনো ধরনের দুর্বলতা রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। শিক্ষার মানোন্নয়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার বাজার এলাকায় ড্রেন পরিষ্কারের পর ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখায় পথচারী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ড্রেন পরিষ্কারের বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তন করে তাৎক্ষণিকভাবে ময়লা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন চান্দিনা পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তার।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ড্রেন পরিষ্কারের সময় ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখার পরিবর্তে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা জরুরি। বিশেষ করে তরল প্রকৃতির ময়লা প্লাস্টিকের কাটা হাফড্রামে সংগ্রহ করে ট্রলি বা ট্রাক্টরের মাধ্যমে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ফজলুল সাত্তার মনে করেন, ড্রেন পরিষ্কারের নামে পরিবেশ দূষণ ও পথচারীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে কয়েক দিন পর LAISE প্রশিক্ষণ শেষ হলে সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভার প্রতিটি খাতে আধুনিক পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন ফজলুল সাত্তার। নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, পৌরবাসীর সেবা করাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল নয়।

এ ছাড়া চাঁদাবাজি, সালিস-দরবারে ঘুষ বাণিজ্য এবং দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। এসব অনিয়ম বন্ধ করে পৌরবাসীর জন্য একটি সেবামুখী পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই মেয়র পদপ্রার্থী।

চান্দিনা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে তাঁর এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে ড্রেনের ময়লা ব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।