বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জে আবাসিক হোটেলের লিফটে আটকে পড়া বরসহ ১০ জন উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জে আবাসিক হোটেলের লিফটে আটকে পড়া বরসহ ১০ জন উদ্ধার

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি আবাসিক হোটেলের লিফটে আটকে পড়া বরসহ ১০ জনকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শহরের স্টেশন রোড এলাকার খান টাওয়ারে অবস্থিত হোটেল শেরাটনের নিচতলার একটি দেয়াল ভেঙে তাদের উদ্ধার করা হয়।

এর আগে বেলা পৌনে ৩টার দিকে হোটেলটির চারতলা থেকে দোতলায় নামার সময় ছয়জন ধারণক্ষমতার একটি লিফটে ১০ জন ওঠেন। অতিরিক্ত ওজনের কারণে লিফটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচের দিকে নেমে গিয়ে প্রান্তসীমায় থেমে যায়। এতে বরসহ ১০ জন বরযাত্রী লিফটের ভেতরে আটকা পড়েন।

লিফটটি উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন হওয়ায় সেটি ছিঁড়ে না গিয়ে নিরাপদভাবে নিচে থেমে পড়ে। ফলে লিফটে আটকে পড়া কেউ শারীরিকভাবে আহত হননি। আটকে পড়ার পর তারা লিফটের ইন্টারকমের মাধ্যমে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

খবর পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ ফায়ার সার্ভিসে বিষয়টি জানায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। এ সময় অন্যান্য বরযাত্রী, কনেপক্ষের স্বজন ও উৎসুক জনতা হোটেলটিতে ভিড় জমান।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— আতিকুর রহমান (৪০), মিনহাজ ইবনে ফারুক (৩০), জোনায়েদ তারেক (৩৫), মোনতাছির (২৫), ইয়াহিয়া তানভীর (২০), এমদাদ (৪০), হুমায়ুন কবির (৩০), রাইছুস সালেহীন (৩৫), রেজওয়ানুল হক (৩৯) ও জারিফ (৩২)। তাদের মধ্যে বর হলেন জোনায়েদ তারেক। তারা সবাই চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তেকোটা গ্রামের বাসিন্দা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরপক্ষের লোকজনের বাড়ি দূরে হওয়ায় তারা বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের হোটেল শেরাটনে বরসহ আত্মীয়স্বজন নিয়ে রাত্রিযাপন করেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর শহরের পুরান থানায় অবস্থিত ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদে বিয়ে সম্পন্ন হয়। মধ্যাহ্নভোজের জন্য অন্য একটি রেস্টুরেন্ট নির্ধারিত থাকায় সেখানে যাওয়ার আগে তারা হোটেলে ফেরেন।

এরপর হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় ছয়জনের ধারণক্ষমতার লিফটে ১০ জন ওঠেন। এতে অতিরিক্ত ওজনের কারণে লিফটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচে নেমে গিয়ে আটকে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রথমে লিফটটি উপরে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে নিচতলার লিফট সংলগ্ন দেয়াল ভেঙে একে একে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার আমিনুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করি। লিফটে আটকা পড়া ১০ জনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

হোটেল শেরাটনের চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন খান বলেন, লিফটটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ মানুষ ওঠায় লিফটটি নিচে নেমে যায়। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দক্ষতার সঙ্গে দেয়াল ভেঙে সবাইকে উদ্ধার করেছেন।

পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে চান্দিনার বর্ষীয়ান নেতা অধ্যাপক আলী আশরাফ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে চান্দিনার বর্ষীয়ান নেতা অধ্যাপক আলী আশরাফ

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আলী আশরাফের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০২১ সালের ৩০ জুলাই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

১৯৪৭ সালে চান্দিনা উপজেলার গল্লাই গ্রামে জন্ম নেওয়া আলী আশরাফ পেশাজীবনের শুরুতে কলেজে অধ্যাপনা করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও কুমিল্লা-৭ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে তিনি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

দলীয়ভাবে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চান্দিনার শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অধ্যাপক আলী আশরাফ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে, এক ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।

দেখা মাত্রই শেয়ার না করে একটু ভাবুন!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দেখা মাত্রই শেয়ার না করে একটু ভাবুন!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্ক্যান্ডাল ও অশালীন ভিডিও ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট, ব্যবসায়ী ও সংগঠক আবুজর গিফারী।

নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্ক্যান্ডাল কিংবা অশালীন ভিডিও যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনেককে শেয়ার করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ—সব বয়সী মানুষের সামনে চলে আসছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আবুজর গিফারী বলেন, “একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের মনে রাখা দরকার, অন্যের দোষ কিংবা গোপন বিষয় ছড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়।”

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নূরের একটি আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিশ্চয় যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” —সুরা আন-নূর, আয়াত ১৯।

তিনি আরও বলেন, ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় না নেমে প্রত্যেকের উচিত নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়া। কারও ব্যক্তিগত ভিডিও কিংবা স্ক্যান্ডাল শেয়ার না করে তা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।

শেয়ার করার আগে সবাইকে একবার ভাবার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই পোস্ট কিংবা ভিডিওটি শেয়ার করার মাধ্যমে আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন, নাকি সমাজে অশ্লীলতা ও ক্ষতি আরও ছড়িয়ে পড়বে?”

পোস্টের শেষাংশে আবুজর গিফারী বলেন, “সব সময় অন্যের খারাপ চরিত্রকে বড় করে প্রচার না করে, নিজের চরিত্র ও আচরণের দিকে একটু খেয়াল করুন।”

বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়ায় সচেতন আলেম সমাজের ১২ দফা প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়ায় সচেতন আলেম সমাজের ১২ দফা প্রস্তাব

কওমী মাদরাসায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এবং আল-হাইআতুল উলয়ার কাছে ১২ দফা সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছে ‘সচেতন আলেম সমাজ’।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আল-হাইআতুল উলয়ার প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাবনাগুলো হস্তান্তর করা হয়। এতে কওমী মাদরাসাকে ঘিরে অপপ্রচার, গুজব, সম্পাদিত ভিডিওভিত্তিক ডিজিটাল মব এবং একপেশে মিডিয়া ট্রায়াল প্রতিরোধে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও ডাটাবেজ তৈরি, শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষাগত ও চারিত্রিক মানদণ্ড নির্ধারণ, অপরাধে দোষী শিক্ষকদের ব্ল্যাকলিস্ট করা, নিয়মিত মাদরাসা পরিদর্শন এবং নিবন্ধন নবায়ন ব্যবস্থা চালু।

এ ছাড়া শিশু সুরক্ষা নীতিমালা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল, ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন, রিসার্চ সেন্টার, সিসিটিভি স্থাপন, প্রেস উইং ও সাইবার মনিটরিং টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ভিত্তিহীন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদরাসায় কোনো অপরাধ ঘটলে তা গোপন না করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রস্তাব পেশকারী প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কওমী মাদরাসাগুলোর জবাবদিহিতা বাড়বে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং পরিকল্পিত অপপ্রচার প্রতিরোধ করা সহজ হবে।