রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

হোসেনপুরে শীত উপেক্ষা করে বোরো আবাদে ব্যস্ত কৃষক

সঞ্জিত চন্দ্র শীল  প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে শীত উপেক্ষা করে বোরো আবাদে ব্যস্ত কৃষক
তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশাকে উপক্ষো করেই জমি তৈরি করে তাতে বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করেছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার চরাঞ্চলের চাষিরা। কৃষকদের আশা, আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার তারা বোরো ধানের বাম্পার ফলন পাবেন। গেল বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় হোসেনপুরের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ইরি-বোরো ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। ফলে উপজেলার গ্রামাঞ্চল কিংবা পৌরসভার আবাদী ও অনাবাদী জমিতে ব্যাপকহারে বোরো ধান চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
এদিকে শ্যালো মেশিন কিংবা পাম্পের সাহায্যে জমিতে পানি দিয়ে ধান রোপণের জন্য জমি উপযোগী করে তুলছেন বেশিরভাগ কৃষক। লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ পদ্ধতি এখন আর চোখে পড়ে না। অধিকাংশ জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করা ও বীজতলা থেকে ধানের চারা উত্তোলন করে জমিতে রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। তবে সারা দেশে ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান আবাদ বাড়ছে বলে জানান স্থানীয় চাষিরা।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মওসুমে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি। সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে উপজেলার জিনারী, পুমদি, শাহেদল, গোবিন্দপুর, আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে দেখা যায় ইরি-বোরো রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। তবে জিনারী ইউনিয়নের চর কাটিহারী, চর হাজিপুর সিদলা ইউনিয়নের সাহেবের চর, চর বিশ্বনাথপুর গ্রামে পুরোদমে বোরো ধান রোপণ শুরু হয়েছে।
এ সময় স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবছর জমিতে তারা বিনা ৭ ও ৮, হাইব্রিড বিধান ৭, ২৮, ২৯, ৪৯, ৫২, বায়ার কোম্পানির ধানী গোল্ড, তেজ ও পেট্রোকেম কোম্পানির পাইওনিয়ার এগ্রো-১২ জাতের ধান রোপণ করছেন। অনেক কৃষক শ্রমিকের সাথে নিজেও বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত রয়েছেন। উপজেলার জামাইল গ্রামের কৃষক মোঃ নবী হোসেন সহ অনেকেই জানান, এবার বিঘাপ্রতি ২০ কেজি ডেপ, ১২ কেজি পটাস, ৫ কেজি জিপসাম এবং ৫ থেকে ৭ ভ্যান গোবর সার মিশিয়ে জমিতে পানি দিয়ে কাদা তৈরি করছেন তারা। পরে বীজতলা থেকে চারা এনে সেই জমিতে রোপণ করছেন। এরই মধ্যে উপজেলায় প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান,বোরো ধান রোপণের শুরু থেকে কাটা ও মাড়াই পর্যন্ত সময় লাগে ৯০ দিন। কাটা-মাড়াই পর্যন্ত বোরো চাষিদের খরচ হয় প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। গেলো বোরো মৌসুমে ধানের দাম বেশি পাওয়ায় এবারও দাম ভালো পাওয়ার আশায় আছেন চাষিরা।
উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চরহাজিপুর গ্রামের আমন ধান চাষী নজরুল ইসলাম, চর বিশ্বনাথ গ্রামের রফিক মিয়া, সিদলা ইউনিয়নের সাহেবের চর গ্রামের কামরুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, ধানের দাম বাজার বেশি থাকায় বোরো রোপণ করছি অধিকাংশ জমিতে। আরও অনেক জমিতে রোপণ করা বাকি আছে। তারা আরও জানান, বাজারের ধানের দাম বেশি। তাই বোরো ধান চাষ বেশি আবাদ করবেন বলে জানান তারা।
এ ব্যাপারে উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন  জানান, চলতি মৌসুমে ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো চাষে চরাঞ্চলের কৃষকরা বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। তবে এ বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রোপণ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আজ চান্দিনায় ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন, আসছেন হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেমরা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
আজ চান্দিনায় ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন, আসছেন হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেমরা

কুমিল্লার চান্দিনায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চান্দিনা থানা কওমী মাদরাসা সংগঠনের উদ্যোগে ২৬তম বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন। সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও ইসলামী বক্তাদের উপস্থিতি ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আয়োজকদের প্রকাশিত পোস্টার অনুযায়ী, ২ নভেম্বর, সোমবার দুপুর ২টায় চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনে বয়ান পেশ করার কথা রয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মাওলানা রেজাউল করীম আবরার, আল্লামা নুরুল ইসলাম অলিপুরী এবং মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীর।

এছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন আল্লামা নুরুল হক, আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, আল্লামা আশেকে এলাহী, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা নজিব আহমদ, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সিরাজী, মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মুফতি দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ ও মুফতি রেজাউল করীম আবরারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট আলেম-ওলামাগণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন হাফেজ মাওলানা আহমাদুল্লাহ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মাওলানা এমদাদ উল্লাহ খান।

উল্লেখ্য, চান্দিনা থানা কওমী মাদরাসা সংগঠন সফলতার সঙ্গে ৩৪ বছর পথচলা অতিক্রম করেছে। সংগঠনটির ২৬তম বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এ সম্মেলনে দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে চান্দিনা ও আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যথাসময়ে সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্মেলনের স্থান: চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, চান্দিনা, কুমিল্লা।সময়: দুপুর ২টা। তারিখ: ২৬ নভেম্বর, সোমবার (পোস্টারের তথ্য অনুযায়ী)।

আলিম পরীক্ষায় তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২ জন!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
আলিম পরীক্ষায় তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২ জন!

কুমিল্লার চান্দিনা থানার তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এবারের আলিম পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাস করেছে মাত্র ২ জন। সে হিসাবে পাসের হার মাত্র ২০ শতাংশ।

এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জনই অকৃতকার্য হওয়ায় এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, পাঠদানে অনিয়মসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ক্লাস বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহনের অভিযোগ তুলছেন অনেকে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলের পেছনে প্রকৃত কারণ কী? শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ঘাটতি, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, নাকি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কোনো ধরনের দুর্বলতা রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। শিক্ষার মানোন্নয়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার বাজার এলাকায় ড্রেন পরিষ্কারের পর ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখায় পথচারী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ড্রেন পরিষ্কারের বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তন করে তাৎক্ষণিকভাবে ময়লা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন চান্দিনা পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তার।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ড্রেন পরিষ্কারের সময় ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখার পরিবর্তে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা জরুরি। বিশেষ করে তরল প্রকৃতির ময়লা প্লাস্টিকের কাটা হাফড্রামে সংগ্রহ করে ট্রলি বা ট্রাক্টরের মাধ্যমে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ফজলুল সাত্তার মনে করেন, ড্রেন পরিষ্কারের নামে পরিবেশ দূষণ ও পথচারীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে কয়েক দিন পর LAISE প্রশিক্ষণ শেষ হলে সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভার প্রতিটি খাতে আধুনিক পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন ফজলুল সাত্তার। নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, পৌরবাসীর সেবা করাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল নয়।

এ ছাড়া চাঁদাবাজি, সালিস-দরবারে ঘুষ বাণিজ্য এবং দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। এসব অনিয়ম বন্ধ করে পৌরবাসীর জন্য একটি সেবামুখী পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই মেয়র পদপ্রার্থী।

চান্দিনা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে তাঁর এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে ড্রেনের ময়লা ব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।