সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

সামাজিক ক্যান্সার: শিশু-নারী নির্যাতন, মানবিক অবক্ষয় ও উত্তরণের পথ

মোঃ মতিউর রহমান প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সামাজিক ক্যান্সার: শিশু-নারী নির্যাতন, মানবিক অবক্ষয় ও উত্তরণের পথ

সমাজ একটি জীবন্ত সত্তা। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও নৈতিক চর্চার মধ্য দিয়েই একটি সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে। কিন্তু যখন সমাজের ভেতরে সহিংসতা, নিষ্ঠুরতা, বৈষম্য ও মানবিক অবক্ষয় বিস্তার লাভ করে, তখন পুরো সমাজব্যবস্থাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমান বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন, নারী নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, যৌন হয়রানি, মানসিক নিপীড়ন এবং নৈতিক অবক্ষয়ের মতো ঘটনাগুলো আর বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; বরং তা ধীরে ধীরে ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। অনেকের কাছেই এটি এখন “সামাজিক ক্যান্সার” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একজন শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমি দেখেছি, এসব সামাজিক ব্যাধি শুধু ব্যক্তি বা পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং নতুন প্রজন্মের মানসিক বিকাশ ও মূল্যবোধকেও গভীরভাবে আঘাত করছে। প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনের নতুন নতুন ঘটনা প্রকাশ পেলেও সমাজ ধীরে ধীরে যেন এসবের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। আর এই অভ্যস্ততাই সবচেয়ে ভয়ংকর সংকেত।

সমাজ পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের সমাজ একসময় গভীর পারিবারিক বন্ধন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। গ্রামীণ সমাজে শিশুকে “আল্লাহর আমানত” হিসেবে দেখা হতো এবং নারীকে পরিবারের সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। যৌথ পরিবার, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ধর্মীয় অনুশাসন সমাজকে অনেক অপরাধ ও অবক্ষয় থেকে রক্ষা করত।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমাজের গঠনেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকের পর দ্রুত নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার ফলে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারে রূপ নিতে শুরু করে। কর্মব্যস্ত জীবনে পিতা-মাতার সন্তানের প্রতি সময় ও মানসিক সম্পৃক্ততা কমে গেছে। এর ফলে শিশু-কিশোররা অনেকাংশেই একাকিত্ব, মানসিক চাপ ও মূল্যবোধের সংকটে ভুগছে।

এর পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার সমাজে নতুন ধরনের সংকট তৈরি করেছে। স্মার্টফোন ও অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে অশ্লীলতা, সহিংস কনটেন্ট ও পর্নোগ্রাফি সহজেই শিশু-কিশোরদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ভার্চুয়াল ও অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম করে তুলেছে। একই সঙ্গে ভোগবাদী সংস্কৃতি, অনুকরণপ্রবণতা এবং সামাজিক প্রতিযোগিতা মানুষের মানবিক বোধকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে সমাজে এখনও পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা দৃঢ়ভাবে বিদ্যমান। নারীকে অনেক ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যৌতুক, লিঙ্গ বৈষম্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্মম বাস্তবতা
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস (BBS) ও UNFPA পরিচালিত ২০২৪ সালের Violence Against Women Survey অনুযায়ী, দেশের ৭৬ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছরে ৭৮৬ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণ বা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্যমতে, শুধু এপ্রিল ২০২৬ মাসেই নারী ও শিশু নির্যাতনের ২ হাজারের বেশি মামলা দায়ের হয়েছে।

এছাড়া শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা ২২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশে লাখ লাখ মানুষ হতাশা, উদ্বেগ ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। প্রতি বছর বহু মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

এসব পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়; বরং সমাজের গভীর মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি।

উত্তরণের পথ
এই সামাজিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন বহুমাত্রিক ও সমন্বিত উদ্যোগ। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র ও সমাজ—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ⅰ. আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, শিশু আইন, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি জেলায় শিশু আদালত, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার এবং নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্ক আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা জরুরি।

অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে অপরাধ প্রবণতা কখনোই কমবে না।

ⅱ. শিক্ষা ব্যবস্থায় মানবিক পরিবর্তন
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু চাকরি বা পরীক্ষাকেন্দ্রিক না রেখে মানবিক ও নৈতিক শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে হবে। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত নৈতিক শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা, সম্মানবোধ, সহানুভূতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করতে বিশেষ কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষকদেরও আচরণগত পরিবর্তন ও মানসিক সংকট শনাক্তকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

ⅲ. পরিবার ও সমাজের ভূমিকা
পরিবারই একটি শিশুর প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই সন্তানদের সঙ্গে পিতা-মাতার মানসিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। সন্তানদের সময় দেওয়া, তাদের কথা শোনা এবং মূল্যবোধ শেখানো এখন সময়ের দাবি।
এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং গণমাধ্যমকে সচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিবেশী ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সামাজিক দায়বদ্ধতাও পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি।

ⅳ. মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ
দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হবে। হটলাইন, কাউন্সেলিং এবং মনোরোগ সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কারণ অনেক অপরাধ ও সহিংসতার পেছনেই মানসিক অস্থিরতা বড় ভূমিকা রাখে।

সমাজের এই গভীর সংকট একদিনে সৃষ্টি হয়নি, তাই এর সমাধানও একদিনে সম্ভব নয়। তবে সচেতনতা, সুশিক্ষা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে পরিবর্তনের পথ তৈরি করা সম্ভব।
আজ যদি আমরা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও নৈতিকতা গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে আরও নিরাপদ, সুস্থ ও মানবিক।
সময় এসেছে নীরবতা ভাঙার। কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতা কখনো সমাধান নয়; বরং তা অপরাধকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

আজ চান্দিনায় ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন, আসছেন হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেমরা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
আজ চান্দিনায় ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন, আসছেন হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেমরা

কুমিল্লার চান্দিনায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চান্দিনা থানা কওমী মাদরাসা সংগঠনের উদ্যোগে ২৬তম বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন। সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও ইসলামী বক্তাদের উপস্থিতি ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আয়োজকদের প্রকাশিত পোস্টার অনুযায়ী, ২ নভেম্বর, সোমবার দুপুর ২টায় চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনে বয়ান পেশ করার কথা রয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মাওলানা রেজাউল করীম আবরার, আল্লামা নুরুল ইসলাম অলিপুরী এবং মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীর।

এছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন আল্লামা নুরুল হক, আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, আল্লামা আশেকে এলাহী, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা নজিব আহমদ, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সিরাজী, মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মুফতি দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ ও মুফতি রেজাউল করীম আবরারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট আলেম-ওলামাগণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন হাফেজ মাওলানা আহমাদুল্লাহ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মাওলানা এমদাদ উল্লাহ খান।

উল্লেখ্য, চান্দিনা থানা কওমী মাদরাসা সংগঠন সফলতার সঙ্গে ৩৪ বছর পথচলা অতিক্রম করেছে। সংগঠনটির ২৬তম বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এ সম্মেলনে দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে চান্দিনা ও আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যথাসময়ে সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্মেলনের স্থান: চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, চান্দিনা, কুমিল্লা।সময়: দুপুর ২টা। তারিখ: ২৬ নভেম্বর, সোমবার (পোস্টারের তথ্য অনুযায়ী)।

আলিম পরীক্ষায় তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২ জন!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
আলিম পরীক্ষায় তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২ জন!

কুমিল্লার চান্দিনা থানার তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এবারের আলিম পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাস করেছে মাত্র ২ জন। সে হিসাবে পাসের হার মাত্র ২০ শতাংশ।

এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জনই অকৃতকার্য হওয়ায় এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, পাঠদানে অনিয়মসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ক্লাস বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহনের অভিযোগ তুলছেন অনেকে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলের পেছনে প্রকৃত কারণ কী? শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ঘাটতি, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, নাকি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কোনো ধরনের দুর্বলতা রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। শিক্ষার মানোন্নয়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার বাজার এলাকায় ড্রেন পরিষ্কারের পর ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখায় পথচারী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ড্রেন পরিষ্কারের বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তন করে তাৎক্ষণিকভাবে ময়লা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন চান্দিনা পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তার।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ড্রেন পরিষ্কারের সময় ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখার পরিবর্তে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা জরুরি। বিশেষ করে তরল প্রকৃতির ময়লা প্লাস্টিকের কাটা হাফড্রামে সংগ্রহ করে ট্রলি বা ট্রাক্টরের মাধ্যমে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ফজলুল সাত্তার মনে করেন, ড্রেন পরিষ্কারের নামে পরিবেশ দূষণ ও পথচারীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে কয়েক দিন পর LAISE প্রশিক্ষণ শেষ হলে সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভার প্রতিটি খাতে আধুনিক পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন ফজলুল সাত্তার। নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, পৌরবাসীর সেবা করাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল নয়।

এ ছাড়া চাঁদাবাজি, সালিস-দরবারে ঘুষ বাণিজ্য এবং দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। এসব অনিয়ম বন্ধ করে পৌরবাসীর জন্য একটি সেবামুখী পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই মেয়র পদপ্রার্থী।

চান্দিনা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে তাঁর এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে ড্রেনের ময়লা ব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।