ব্যবসায়ীদের স্বার্থে ইজারার পুরো টাকা নিজে দেওয়ার ঘোষণা ডা. মুস্তাফিজুর রহমানের!

শ্রীমন্তপুর বাজারের স্বাভাবিক গতিশীলতা বজায় রাখা এবং সরকারি নিয়ম মেনে যারা ইজারা এনেছেন, তাদের সাধুবাদ জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কারিমিয়া হোমিও হলের স্বত্বাধিকারী ডা: হাঃ মাওঃ মোস্তাফিজুর রহমান মুরাদ (ফারুক)। তবে একই সঙ্গে তিনি বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষায় একটি ব্যতিক্রমী ও মানবিক প্রস্তাব এবং কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন তুলে ধরেছেন।
তার সেই ফেসবুক পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:
”যিনি ইজারা এনেছেন, আমি তার কোনো দোষ দেখি না। ইজারা না আনলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাজারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারত বা ভবিষ্যতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারত। এজন্য যিনি ইজারা এনেছেন, তাকে আমি সাধুবাদ জানাই।
তবে আমার একটি প্রশ্ন আছে। অতীতে যারা গরুর বাজারের ইজারা নিয়েছিলেন, তারা গরুর বাজার থেকে কিছুটা লাভবানও হয়েছিলেন। একই সঙ্গে তারাই সাপ্তাহিক বাজারের ইজারা নিয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থে সাপ্তাহিক বাজারের খাজনা মওকুফ করেছিলেন। কিন্তু এবার যারা গরুর বাজারের ইজারা নিয়েছেন, তারা সাপ্তাহিক বাজারের ইজারা নিলেন না কেন?
লাভজনক প্রকল্প পরিচালনা করা অনেকের কাছেই আকর্ষণীয়, কারণ এতে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু লোকসানের সম্ভাবনা থাকলে সেই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা কমে যায়। তাই প্রশ্ন থেকেই যায়—যদি লাভের প্রকল্প গ্রহণ করা যায়, তাহলে লোকসানের প্রকল্পের দায়িত্ব নিতে কেউ এগিয়ে এলেন না কেন?
আমি বলতে চাই, এই ইজারা নিতে যত টাকা খরচ হয়েছে—ইজারাদার যদি রাজি হন, তবে সম্পূর্ণ টাকা আমি দিয়ে দেব। বিনিময়ে বাজারের খাজনা বন্ধ করে ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। (বি:দ্র: আর যদি ইজারাদার রাজি না হন, সেটা উনার ব্যক্তিগত বিষয়। কারণ উনি উপজেলা থেকে ইজারা এনেছেন)।
আর যদি বাজারের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া যায়, তাহলে স্থায়ী ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে কাঁচাবাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—সকলেই উপকৃত হবেন। বাজারের অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সবাই লাভবান হবে। তাই এ ধরনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করাও যেতে পারে। তাহলে ইজারাদারসহ সকল ব্যবসায়ী লাভবান হবেন।”
ডা. মুস্তাফিজুর রহমান মুরাদ (ফারুক)-এর এই মানবিক ও উন্নয়নমুখী প্রস্তাবটি ইতিমধ্যে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করছেন যে, বাজার কমিটি ও সংশ্লিষ্ট ইজারাদার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবেন।














