রামমোহন–চান্দিনা সড়ক ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি
রামমোহন–চান্দিনা সড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনায় নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট, সংগঠক ও উদ্যোক্তা আবুজর গিফারী তার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সড়কটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২২ সালে সড়কটি প্রশস্ত ও পাকা করার পর এলাকাবাসী নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াতের আশা করেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকেই সড়কটিতে ছোট-বড় দুর্ঘটনা বেড়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের বরাতে তিনি দাবি করেন, গত কয়েক বছরে এ সড়কে দুর্ঘটনায় ১০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়। এবং তিনি দাবী করেন ২ বছর আগে তার বন্ধু সিএনজি দুর্ঘটনায় পা ভেঙ্গে আহত হয়েছে।
সর্বশেষ সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় তামিম নামের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান আবুজর গিফারী। এ ঘটনায় তামিমের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।
তার অভিযোগ, কিছু সিএনজিচালকের বেপরোয়া গতি, অসতর্কতা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং যাত্রী ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে খামখেয়ালিপনার কারণে সড়কটিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গতিরোধক, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, পর্যাপ্ত সড়কবাতি ও নিয়মিত নজরদারির অভাবও পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
পোস্টে মোটরসাইকেলচালকদের প্রতিও অতিরিক্ত গতিতে বাইক না চালানো, হেলমেট ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। কয়েক মিনিট আগে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য নিজের ও অন্যের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রামমোহন–চান্দিনা সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। তাই সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গতিরোধক স্থাপন, প্রয়োজনীয় ট্রাফিক সাইন ও সড়কবাতির ব্যবস্থা, বেপরোয়া যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং চালকদের লাইসেন্স ও যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তামিমের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
সূত্র: আবুজর গিফারীর ফেসবুক পেইজ।










