রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

জুলাই: চান্দিনার রাজপথে আমার দেখা আন্দোলনের দিনগুলো

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
জুলাই: চান্দিনার রাজপথে আমার দেখা আন্দোলনের দিনগুলো

জুলাইয়ের প্রথম প্রহর থেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি আমার গভীর নজর ছিল। একজন সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে শুরু থেকেই উপলব্ধি করেছিলাম—এটি কেবল চাকরিতে কোটার প্রশ্ন নয়; এটি ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি যৌক্তিক আন্দোলন। তাই শুরু থেকেই আমি এই আন্দোলনের প্রতি নৈতিক সমর্থন জানিয়ে আসছিলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিদিনই নতুন নতুন মানুষ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছিলেন। তখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও একটি উপলব্ধি তৈরি হচ্ছিল—দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে।

চীন সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি মন্তব্য ছাত্রসমাজের ক্ষোভকে আরও উসকে দেয়। দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আন্দোলন নতুন গতি লাভ করে।

১৬ জুলাই রংপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে আবু সাঈদ শহীদ হন। তাঁর মৃত্যু আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আবু সাঈদের আত্মত্যাগ যেন সমগ্র জাতিকে জাগিয়ে তোলে। এরপর আন্দোলন দাবানলের মতো সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষও শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে শুরু করেন।

চান্দিনায় আন্দোলনের সূচনা

এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ জুলাই চান্দিনায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সূচনা হয়। এর আগের রাত থেকেই বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছিল। আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনের পাশে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সকাল প্রায় ১০টার দিকে মাধাইয়া মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি কলেজ থেকে আন্দোলনের সূচনা হয়। সেখানে ছাত্রনেতা আশিকুর রহমান, মারুফ, শামিম আহমেদসহ অনেকে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। কিছুক্ষণ পর আমি, যুবনেতা উবাইদুল হক, কামাল হোসেন ফরাজী এবং মাধাইয়া ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি হাফেজ মিজানুর রহমান আন্দোলনে যোগ দিই।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চান্দিনা রেদওয়ান আহমেদ কলেজ, চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং চান্দিনা আল-আমিন কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও রাজপথে নেমে আসেন। আন্দোলনের পরিধি দ্রুত বিস্তৃত হতে থাকে।

শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার জন্য ইসলামী যুব আন্দোলনের উদ্যোগে আমরা সর্বপ্রথম একটি তহবিল গঠন করি এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবী দল সারাদিন সাহসিকতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করে।

সেদিন আন্দোলনের মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কুমিল্লা উত্তর জেলার সভাপতি সাইফুল ইসলাম, ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি উবাইদুল হক, মুফতি রাশেদ, মাওলানা কামাল ফরাজী, ছাত্রনেতা হাফেজ শাহজালাল, জোবায়ের খান ফরাজীসহ ছাত্র ও যুব আন্দোলনের বিভিন্ন ইউনিটের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। সবার লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

দমন-পীড়ন ও অস্থির সময়

পরবর্তী দিনগুলোতে আন্দোলন দমনে সরকার দেশব্যাপী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। কারফিউ জারি করা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের পরিচয় সংগ্রহের চেষ্টা চলতে থাকে। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। সেই সময়ের ভয়, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার স্মৃতি আজও স্পষ্ট।

১৯ জুলাই সারাদেশে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণ ও দমন-পীড়নের প্রতিবাদে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ একটি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই নরপিশাচ, তুই আমার ছেলেদের বুকে গুলি করলি কেন?”

তিনি দেশবাসী ও দলের নেতাকর্মীদের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এবং চলমান আন্দোলনে নৈতিক ও মানবিক সমর্থন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর এই বক্তব্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগায়।

একই দিনে সভা-সমাবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায়, বাস-ট্রেনসহ বিভিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং কার্যত রাজধানীসহ দেশের অনেক অঞ্চল বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে। পুরো দেশজুড়ে এক ধরনের অবরুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা আন্দোলনের গতিপথকে আরও কঠিন করে তোলে।

এক দফা আন্দোলন ও উত্তেজনা

৩ আগস্ট শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এক দফা দাবির ঘোষণা আসার পর আন্দোলন নতুন মাত্রা লাভ করে। সারা দেশের মতো চান্দিনাতেও আন্দোলনের জোয়ার সৃষ্টি হয়। দেবিদ্বার উপজেলা ও চান্দিনার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন। আমরাও সেই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি।

সেদিন পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। আন্দোলনরত জনতার একটি অংশ সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সরকারি গাড়িতে আগুন দেয়, এতে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

৩ আগস্ট রাত থেকেই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলন প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। পরদিন তারা চান্দিনা মহাসড়কের স্টেশন এলাকায় অবস্থান নেন। অপরদিকে চান্দিনার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্র-জনতা মহাসড়কের পলকী সিনেমা হল এলাকায় সমবেত হতে থাকেন। সেখানে পরিচিত-অপরিচিত অসংখ্য ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকর্মীকে এক কাতারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কুমিল্লা উত্তর জেলার সভাপতি সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে আমরাও আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করি। সেদিন ঢাকা অভিমুখে যাওয়া বিজিবির সাতটি বাস চান্দিনা এলাকায় আটকে দেওয়া হয় এবং সেগুলো ফিরে যেতে বাধ্য হয়। পুরো এলাকাজুড়ে তখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল, কিন্তু আন্দোলনকারীদের মনোবল ছিল অটুট।

৫ আগস্টের দিন ও বিজয়ের অনুভূতি

৫ আগস্ট “লং মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচির ঘোষণা এলে আমরা ঢাকায় না গিয়ে চান্দিনাতেই অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। মহাসড়ক অবরোধ অব্যাহত রাখি এবং আন্দোলনের কর্মসূচি চালিয়ে যাই। তখনও আমরা নিশ্চিতভাবে জানতাম না যে ঢাকায় কী ঘটছে।

জোহরের আজান হলে আমরা সিদ্ধান্ত নিই—রাজপথেই জামাতে নামাজ আদায় করব। মহাসড়কের ওপরই জামাতের আয়োজন করা হয় এবং আমার ইমামতিতে জোহরের নামাজ আদায় করা হয়। নামাজ শেষে দেশের শান্তি, শহীদদের মাগফিরাত, স্বৈরশাসনের অবসান এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের জন্য আন্তরিক দোয়া ও মুনাজাত করি।

কিছুক্ষণ পর খবর আসে—সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এরপর জানতে পারি, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। মুহূর্তের মধ্যেই চান্দিনার রাজপথে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ একে অপরকে আলিঙ্গন করছিল, কেউ সিজদায় লুটিয়ে পড়ছিল, কেউ আনন্দাশ্রু ধরে রাখতে পারছিল না।

সেদিন মনে হয়েছিল, দীর্ঘদিনের একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে। কিন্তু একই সঙ্গে উপলব্ধি করেছিলাম—কোনো শাসকের পতনই চূড়ান্ত বিজয় নয়। প্রকৃত বিজয় তখনই হবে, যখন ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানুষের মর্যাদার ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

আজও জুলাইয়ের সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে রাজপথের স্লোগান, শিক্ষার্থীদের সাহস, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং শহীদদের আত্মত্যাগ চোখের সামনে ভেসে ওঠে। জুলাই আমাদের শুধু একটি আন্দোলনের স্মৃতি দেয়নি; দিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শিক্ষা। সেই শিক্ষাই আমাদের ভবিষ্যতের পথচলার প্রেরণা হয়ে থাকবে।

লেখক:
মাওলানা মুহাম্মদ মাহদী হাসান
সাংগঠনিক সম্পাদক, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ, কুমিল্লা উত্তর জেলা
সাবেক সভাপতি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, কুমিল্লা উত্তর জেলা

আজ চান্দিনায় ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন, আসছেন হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেমরা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
আজ চান্দিনায় ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন, আসছেন হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেমরা

কুমিল্লার চান্দিনায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চান্দিনা থানা কওমী মাদরাসা সংগঠনের উদ্যোগে ২৬তম বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন। সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও ইসলামী বক্তাদের উপস্থিতি ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আয়োজকদের প্রকাশিত পোস্টার অনুযায়ী, ২ নভেম্বর, সোমবার দুপুর ২টায় চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনে বয়ান পেশ করার কথা রয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মাওলানা রেজাউল করীম আবরার, আল্লামা নুরুল ইসলাম অলিপুরী এবং মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীর।

এছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন আল্লামা নুরুল হক, আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, আল্লামা আশেকে এলাহী, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা নজিব আহমদ, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সিরাজী, মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মুফতি দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ ও মুফতি রেজাউল করীম আবরারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট আলেম-ওলামাগণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন হাফেজ মাওলানা আহমাদুল্লাহ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মাওলানা এমদাদ উল্লাহ খান।

উল্লেখ্য, চান্দিনা থানা কওমী মাদরাসা সংগঠন সফলতার সঙ্গে ৩৪ বছর পথচলা অতিক্রম করেছে। সংগঠনটির ২৬তম বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এ সম্মেলনে দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে চান্দিনা ও আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যথাসময়ে সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্মেলনের স্থান: চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, চান্দিনা, কুমিল্লা।সময়: দুপুর ২টা। তারিখ: ২৬ নভেম্বর, সোমবার (পোস্টারের তথ্য অনুযায়ী)।

আলিম পরীক্ষায় তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২ জন!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
আলিম পরীক্ষায় তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২ জন!

কুমিল্লার চান্দিনা থানার তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এবারের আলিম পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাস করেছে মাত্র ২ জন। সে হিসাবে পাসের হার মাত্র ২০ শতাংশ।

এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জনই অকৃতকার্য হওয়ায় এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, পাঠদানে অনিয়মসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ক্লাস বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহনের অভিযোগ তুলছেন অনেকে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলের পেছনে প্রকৃত কারণ কী? শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ঘাটতি, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, নাকি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কোনো ধরনের দুর্বলতা রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। শিক্ষার মানোন্নয়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার বাজার এলাকায় ড্রেন পরিষ্কারের পর ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখায় পথচারী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ড্রেন পরিষ্কারের বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তন করে তাৎক্ষণিকভাবে ময়লা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন চান্দিনা পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তার।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ড্রেন পরিষ্কারের সময় ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখার পরিবর্তে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা জরুরি। বিশেষ করে তরল প্রকৃতির ময়লা প্লাস্টিকের কাটা হাফড্রামে সংগ্রহ করে ট্রলি বা ট্রাক্টরের মাধ্যমে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ফজলুল সাত্তার মনে করেন, ড্রেন পরিষ্কারের নামে পরিবেশ দূষণ ও পথচারীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে কয়েক দিন পর LAISE প্রশিক্ষণ শেষ হলে সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভার প্রতিটি খাতে আধুনিক পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন ফজলুল সাত্তার। নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, পৌরবাসীর সেবা করাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল নয়।

এ ছাড়া চাঁদাবাজি, সালিস-দরবারে ঘুষ বাণিজ্য এবং দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। এসব অনিয়ম বন্ধ করে পৌরবাসীর জন্য একটি সেবামুখী পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই মেয়র পদপ্রার্থী।

চান্দিনা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে তাঁর এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে ড্রেনের ময়লা ব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।