রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ছুটির দিনে নির্বাচনি উত্তাপ; বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির কর্মব্যস্ততা

রেজাউল হক প্রকাশিত: শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ছুটির দিনে নির্বাচনি উত্তাপ; বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির কর্মব্যস্ততা

দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পর সারাদেশে শুরু হয়েছে নির্বাচনি আমেজ। ঘোষণার পরে  গতকাল শুক্রবার ছিল প্রথম সরকারি ছুটির দিন, আর সে দিন থেকেই প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। গণসংযোগ, দোয়া মাহফিল, মসজিদে জুমার নামাজ আদায়সহ নানা কর্মসূচিতে ছিলেন তারা। শনিবারও মনোনীত প্রার্থীরা মাঠে অবস্থান করছেন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে নির্বাচনি প্রস্তুতি জোরদার করছেন।

এদিকে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস (৭ নভেম্বর) উপলক্ষে সারাদেশে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা, র‌্যালি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আগামীর আন্দোলন ও নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনি উত্তাপ ততই বাড়ছে। বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর মাঠে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। মনোনীত প্রার্থীরা গণসংযোগে ব্যস্ত, পাশাপাশি দলীয় অন্য নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন।

বিএনপির ঘোষিত ২৩৭ আসনের বাইরে বাকি ৬৩টি আসন যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিক দলগুলোর জন্য রাখা হয়েছে। এসব আসনেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও আরও কয়েকটি দলও মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। জানা গেছে, এনসিপি বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠনের চেষ্টা করছে।

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার পল্টনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের গণভোটের দাবি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র। ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।”

ঢাকা-২ আসনের প্রার্থী আমান উল্লাহ আমান বলেন, “নির্বাচন বানচালের কোনো অপচেষ্টা দেশবাসী সফল হতে দেবে না। নির্বাচনের ফলাফল না নিয়ে ঘরে ফিরবে না বিএনপির নেতাকর্মীরা।”
নাটোর-২ আসনের প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, “কিছু রাজনৈতিক দল মনে করছে, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে। তাই তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করতে হবে।”

নির্বাচন বানচালের অংশ হিসেবে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ ধরনের প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশবাসীর প্রতি।

সরকারপ্রধানের ঘোষণামতে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন বলছে, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনানুগভাবে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি চলছে। মাঠ প্রশাসন পুনর্বিন্যস্ত করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, “১৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন-সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।”
সরকার ও নির্বাচন কমিশন উভয়ই জানিয়েছে, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনই তাদের লক্ষ্য।

তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট ইস্যুতে রাজনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ঘোষণা দিয়েছেন, “গণভোট জাতীয় নির্বাচনের আগেই হতে হবে, অন্যথায় রাজপথে নামব।”
সরকার দলগুলোকে এই বিরোধ মেটাতে সাত দিনের সময় দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতার কারণে এই সংকটের সমাধান সম্ভব হতে পারে।

সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, “সারা দেশে এখন নির্বাচনি আমেজ বইছে। এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কেউ থামাতে পারবে না। সরকার জনগণের মতামতকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”

গৌরীপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ‘তালিম ও তারবিয়াত’ অনুষ্ঠিত।

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ‘তালিম ও তারবিয়াত’ অনুষ্ঠিত।

আদর্শবান, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গঠনের লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের অংশগ্রহণে মাসিক ‘তালিম ও তারবিয়াত’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​গৌরীপুরস্থ কুমিল্লা পশ্চিম জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে সংগঠনের জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীলদের আত্মশুদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে দাওয়ানি কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

​নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে একঝাঁক সৎ, দক্ষ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব তৈরি করা আজ সময়ের দাবি। সেই লক্ষ্যেই সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই সাংগঠনিক ও আত্মশুদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

​পরিশেষে, আল্লাহ তাআলার দরবারে এই তালিম ও তারবিয়াতকে কবুল করার এবং দ্বীনের খেদমতে সকলকে আরও কার্যকর ও অগ্রণী ভূমিকা পালনের তাওফীক কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

হজ্ব শেষে দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের খোজ নিলেন হাত পাখার প্রার্থী এহতেশামুল হক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
হজ্ব শেষে দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের খোজ নিলেন হাত পাখার প্রার্থী এহতেশামুল হক

হজ্ব শেষে দেশে ফিরে এহতেশামুল হক কাসেমী চান্দিনার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

নেতাকর্মীদের কাছ থেকে চান্দিনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেন এবং অনিয়ম, দখল, মাদক, ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভা ইসলামী আন্দোলনের চান্দিনাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভা দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়। সর্বশেষ তিনি সারাজীবন চান্দিনার মানুষের পাশে থেকে খেদমত চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা প্রদান করেন।

​চান্দিনার বীরখালে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ‘গণবিচার’: জড়িতদের বয়কটের ঘোষণা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
​চান্দিনার বীরখালে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ‘গণবিচার’: জড়িতদের বয়কটের ঘোষণা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের বীরখাল গ্রামে মাদকের বিস্তার রোধে এক অভিনব ও সচেতনতামূলক ‘গণবিচার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যুবসমাজ ও সাধারণ গ্রামবাসী এই বিচারসভায় ঐক্যবদ্ধ হন।

​শনিবার (বা সাম্প্রতিক যেকোনো দিন) বীরখাল গ্রামে আয়োজিত এই গণবিচার সভায় বক্তারা বলেন, “মাদক আমাদের সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুবসমাজকে এই মরণব্যাধির ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”

​কঠোর সামাজিক বয়কটের হুঁশিয়ারি

​সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এলাকায় যারা মাদকের বেচাকেনা বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের সম্পূর্ণভাবে সমাজচ্যুত বা সামাজিক বয়কট করা হবে। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

​স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে সহযোগিতার হাত

​তবে অপরাধের শাস্তির পাশাপাশি সংশোধনের এক মানবিক সুযোগও রেখেছেন বীরখাল গ্রামবাসী। সভায় ঘোষণা করা হয়, কেউ যদি মাদকের অন্ধকার পথ ছেড়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, তবে তাকে সমাজ থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হবে না। বরং তাকে সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করা হবে, সমাজে তার মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তার পুনর্বাসনের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দেবে গ্রামবাসী।

​আন্দোলন ধরে রাখার অঙ্গীকার

​গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ জানান, বীরখাল গ্রামকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত তাদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন সামাজিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ ও প্রতিরোধ আগামীদিনেও অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।