শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্টের ব্যাখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্টের ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে মুসলিম পুরুষদের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত বলেছেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি আবশ্যক নয়; বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতিই এ বিষয়ে আইনগত ভিত্তি।

মুসলিম আইনে পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও দেশের বাস্তবতায় বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও নৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। অনেকের ধারণা ছিল, প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা উঠে এসেছে।

২৪ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের এখতিয়ারভুক্ত। আইনটিতে কোথাও সরাসরি স্ত্রীর অনুমতিকে বাধ্যতামূলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে কাউন্সিলের অনুমতি থাকলে স্ত্রীর সম্মতি না থাকলেও তা আইনের পরিপন্থী নয়।

রায়ে আরও বলা হয়, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। তবে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ প্রণীত হওয়ার পর পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি আলাদা আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়। সে অনুযায়ী, আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

এদিকে এই রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীরা আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্তের ফলে বহুবিবাহ সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তাঁদের মতে, নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন।

সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আর্থিক সক্ষমতা বা মানসিক প্রলোভনের কারণে কিছু ক্ষেত্রে একাধিক বিয়ের সুযোগ অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। এতে পারিবারিক অস্থিরতা ও সামাজিক বৈষম্য বাড়তে পারে বলেও তারা মত দিয়েছেন। এজন্য বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আপিল বিভাগে বিষয়টি গড়ালে তা আইন ও সমাজ—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে।

চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার বাজার এলাকায় ড্রেন পরিষ্কারের পর ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখায় পথচারী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ড্রেন পরিষ্কারের বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তন করে তাৎক্ষণিকভাবে ময়লা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন চান্দিনা পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তার।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ড্রেন পরিষ্কারের সময় ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখার পরিবর্তে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা জরুরি। বিশেষ করে তরল প্রকৃতির ময়লা প্লাস্টিকের কাটা হাফড্রামে সংগ্রহ করে ট্রলি বা ট্রাক্টরের মাধ্যমে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ফজলুল সাত্তার মনে করেন, ড্রেন পরিষ্কারের নামে পরিবেশ দূষণ ও পথচারীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে কয়েক দিন পর LAISE প্রশিক্ষণ শেষ হলে সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভার প্রতিটি খাতে আধুনিক পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন ফজলুল সাত্তার। নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, পৌরবাসীর সেবা করাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল নয়।

এ ছাড়া চাঁদাবাজি, সালিস-দরবারে ঘুষ বাণিজ্য এবং দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। এসব অনিয়ম বন্ধ করে পৌরবাসীর জন্য একটি সেবামুখী পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই মেয়র পদপ্রার্থী।

চান্দিনা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে তাঁর এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে ড্রেনের ময়লা ব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

চান্দিনায় কেরনখাল ইউনিয়নের ৮ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি আতিকুল আলম শাওন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
চান্দিনায় কেরনখাল ইউনিয়নের ৮ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি আতিকুল আলম শাওন

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন কেরনখাল ইউনিয়নের ৮টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) নিজের ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান এমপি আতিকুল আলম শাওন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পূজার উপহার হিসেবে পূজামণ্ডপগুলোতে শাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

শুভেচ্ছা বার্তায় আতিকুল আলম শাওন সবার জীবনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতি বয়ে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট থাকার কামনা করেন।

রিয়াদের বিমানবন্দর ও সৌদি উড়োজাহাজে হামলা, নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ
রিয়াদের বিমানবন্দর ও সৌদি উড়োজাহাজে হামলা, নিহত ৩

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সৌদি এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই সৌদি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে সৌদি এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেনও রয়েছেন। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশের আরও কয়েকজন নাগরিক আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে হামলার জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কিছু জানানো হয়নি।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এর আগে রিয়াদ বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল।

নিহত ক্যাপ্টেনের নাম হামুদ আলী আলকালথামি বলে জানিয়েছে সৌদি এয়ারলাইনসের মূল প্রতিষ্ঠান সৌদিয়া গ্রুপ। সংস্থাটি জানায়, হামলার সময় তাদের একটি উড়োজাহাজ বিমানবন্দরে অবস্থান করছিল। উড়োজাহাজটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না। তবে হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের প্রতিবেশী দেশগুলোর মিত্রবাহিনী গত সপ্তাহান্তে হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। নতুন অভিযান শুরুর পর সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থার উড়োজাহাজে হামলার এটিই প্রথম নিশ্চিত ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের কারও আঘাত সামান্য, আবার কারও অবস্থা গুরুতর।