রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কুলিয়ারচরে সরকারি জমির তিনটি গাছ কাটার অভিযোগ

রেজাউল হক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুলিয়ারচরে সরকারি জমির তিনটি গাছ কাটার অভিযোগ

অবৈধভাবে কাটা গাছ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাজরা–মাছিমপুর গ্রামের সরকারি রেকর্ডভুক্ত জায়গা থেকে তিনটি গাছ অবৈধভাবে কাটার অভিযোগ উঠেছে। আনুমানিক দুই লাখ টাকা মূল্যের এসব গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগ দাখিল করেন—মো. সারফ উদ্দিন সুপন, আতিকুল ইসলাম, মো. কারিমুল হাসান, শরিফুল ইসলাম ও খোকা মিয়া।

অভিযোগে বলা হয়, বাজরা–মাছিমপুর খেলার মাঠের পাশের পুরনো সরকারি রাস্তার পাশে থাকা একটি রেইনট্রি, একটি আমগাছ ও একটি জামগাছ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মাছিমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম লিটন, নুরুল মনছুর টেনাম ও তানভীর আহম্মেদ বিক্রি করে দেন। গাছগুলো ক্রয় করেন মনোহরপুর গ্রামের গাছ ব্যবসায়ী মো. ফুল মিয়া, যিনি ১ লাখ ১৮ হাজার টাকায় গাছ তিনটি কিনেছিলেন। তিনি জানান, একটি গাছ কাটার পর আরেকটি গাছ মাঝামাঝি কাটতেই পুলিশ বাধা দেয়।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘটনাস্থলে তদন্তে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান। তিনি কাটা গাছ ও ডালপালা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কাইয়ুমের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন।

এদিকে, মাছিমপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম লিটন গাছ বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পূর্বের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প সরকারি রাস্তা দৃশ্যমান করার জন্য স্থানীয়দের মতামত ও চেয়ারম্যান–মেম্বারকে অবহিত করেই গাছ তিনটি ১ লাখ ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। সরকারি নিয়ম ভঙ্গের জন্য তিনি অনুতপ্ত এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানান। একই বক্তব্য দেন তানভীর আহম্মেদ। তবে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

কুলিয়ারচর থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন পিপিএম বলেন, “ইউএনও ও এসিল্যান্ডের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা ও নিয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি সম্পত্তির গাছ নিয়মবহির্ভূতভাবে কাটা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। তদন্ত চলছে।”

গৌরীপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ‘তালিম ও তারবিয়াত’ অনুষ্ঠিত।

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ‘তালিম ও তারবিয়াত’ অনুষ্ঠিত।

আদর্শবান, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গঠনের লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের অংশগ্রহণে মাসিক ‘তালিম ও তারবিয়াত’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​গৌরীপুরস্থ কুমিল্লা পশ্চিম জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে সংগঠনের জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীলদের আত্মশুদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে দাওয়ানি কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

​নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে একঝাঁক সৎ, দক্ষ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব তৈরি করা আজ সময়ের দাবি। সেই লক্ষ্যেই সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই সাংগঠনিক ও আত্মশুদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

​পরিশেষে, আল্লাহ তাআলার দরবারে এই তালিম ও তারবিয়াতকে কবুল করার এবং দ্বীনের খেদমতে সকলকে আরও কার্যকর ও অগ্রণী ভূমিকা পালনের তাওফীক কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

হজ্ব শেষে দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের খোজ নিলেন হাত পাখার প্রার্থী এহতেশামুল হক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
হজ্ব শেষে দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের খোজ নিলেন হাত পাখার প্রার্থী এহতেশামুল হক

হজ্ব শেষে দেশে ফিরে এহতেশামুল হক কাসেমী চান্দিনার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

নেতাকর্মীদের কাছ থেকে চান্দিনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেন এবং অনিয়ম, দখল, মাদক, ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভা ইসলামী আন্দোলনের চান্দিনাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভা দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়। সর্বশেষ তিনি সারাজীবন চান্দিনার মানুষের পাশে থেকে খেদমত চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা প্রদান করেন।

​চান্দিনার বীরখালে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ‘গণবিচার’: জড়িতদের বয়কটের ঘোষণা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
​চান্দিনার বীরখালে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ‘গণবিচার’: জড়িতদের বয়কটের ঘোষণা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের বীরখাল গ্রামে মাদকের বিস্তার রোধে এক অভিনব ও সচেতনতামূলক ‘গণবিচার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যুবসমাজ ও সাধারণ গ্রামবাসী এই বিচারসভায় ঐক্যবদ্ধ হন।

​শনিবার (বা সাম্প্রতিক যেকোনো দিন) বীরখাল গ্রামে আয়োজিত এই গণবিচার সভায় বক্তারা বলেন, “মাদক আমাদের সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুবসমাজকে এই মরণব্যাধির ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”

​কঠোর সামাজিক বয়কটের হুঁশিয়ারি

​সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এলাকায় যারা মাদকের বেচাকেনা বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের সম্পূর্ণভাবে সমাজচ্যুত বা সামাজিক বয়কট করা হবে। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

​স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে সহযোগিতার হাত

​তবে অপরাধের শাস্তির পাশাপাশি সংশোধনের এক মানবিক সুযোগও রেখেছেন বীরখাল গ্রামবাসী। সভায় ঘোষণা করা হয়, কেউ যদি মাদকের অন্ধকার পথ ছেড়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, তবে তাকে সমাজ থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হবে না। বরং তাকে সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করা হবে, সমাজে তার মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তার পুনর্বাসনের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দেবে গ্রামবাসী।

​আন্দোলন ধরে রাখার অঙ্গীকার

​গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ জানান, বীরখাল গ্রামকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত তাদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন সামাজিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ ও প্রতিরোধ আগামীদিনেও অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।