রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইকবালের মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জ-৫ এ কাফনের কাপড়ে মশাল মিছিল

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ইকবালের মনোনয়ন বাতিলের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জ-৫ এ কাফনের কাপড়ে মশাল মিছিল

কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর–নিকলী) সংসদীয় আসনে বিএনপির ত্যাগী নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়ন পরিবর্তনের প্রতিবাদে বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলায় টানা বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন—ইকবালের মনোনয়ন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় বাজিতপুর বাজারের রেজু মার্কেট এলাকায় বৃহৎ পরিসরে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গায়ে কাফনের কাপড় জড়িয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। একই সঙ্গে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী সৈয়দ এহসানুল হুদাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, গত ৪ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে গত ২২ ডিসেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। একই দিনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরে তাকে ওই আসনের নতুন মনোনয়ন দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই ইকবাল সমর্থকরা রাজপথে নামেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়ন পুনর্বহাল না হলে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে। প্রয়োজনে দল থেকে গণপদত্যাগের মতো কঠোর কর্মসূচিতেও যেতে বাধ্য হবেন তারা।

বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাবেক সভাপতি। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাজিতপুর ও নিকলীর নেতাকর্মীদের পাশে বটগাছের মতো দাঁড়িয়ে আছেন। মামলা-হামলা, নির্যাতন, মসজিদ-মাদ্রাসা—সব ক্ষেত্রেই তার অবদান রয়েছে। তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে বিএনপির অঙ্গসংগঠন তা মেনে নেবে না। এতে এই আসনে দল চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। তিনি আরও বলেন, “২০১৮ সালে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। আজও আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই—ইকবাল ছাড়া অন্য কাউকে বাজিতপুর-নিকলীর বিএনপির নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না।”

বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন বাদল বলেন, “ইকবাল ভাই মনোনয়ন না পেলে আমি স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগ করব।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সরারচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মহসিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক লিটন ভুঁইয়া, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এরশাদ মিয়া, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মুর্তজা আলী জাহাঙ্গীর, নিকলী উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আজহারুল ইসলাম সোহেল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহরিয়ার শামীম, কৃষক দলের সদস্যসচিব ফাইজুল ইসলাম টিটু, শ্রমিক দলের সভাপতি আলী আহসান সবুজ, জাসাসের আহ্বায়ক ফয়েজ আহমেদ মিঠু, উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক শেখ রাফিদ রহমান প্রমুখ।

বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ত্যাগী ও পরীক্ষিত এই নেতাকে বাদ দিয়ে কোনো মনোনয়ন সিদ্ধান্ত বাজিতপুর-নিকলীর জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।

গৌরীপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ‘তালিম ও তারবিয়াত’ অনুষ্ঠিত।

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ‘তালিম ও তারবিয়াত’ অনুষ্ঠিত।

আদর্শবান, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গঠনের লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের অংশগ্রহণে মাসিক ‘তালিম ও তারবিয়াত’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​গৌরীপুরস্থ কুমিল্লা পশ্চিম জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে সংগঠনের জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীলদের আত্মশুদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে দাওয়ানি কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

​নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে একঝাঁক সৎ, দক্ষ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব তৈরি করা আজ সময়ের দাবি। সেই লক্ষ্যেই সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই সাংগঠনিক ও আত্মশুদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

​পরিশেষে, আল্লাহ তাআলার দরবারে এই তালিম ও তারবিয়াতকে কবুল করার এবং দ্বীনের খেদমতে সকলকে আরও কার্যকর ও অগ্রণী ভূমিকা পালনের তাওফীক কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

হজ্ব শেষে দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের খোজ নিলেন হাত পাখার প্রার্থী এহতেশামুল হক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
হজ্ব শেষে দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের খোজ নিলেন হাত পাখার প্রার্থী এহতেশামুল হক

হজ্ব শেষে দেশে ফিরে এহতেশামুল হক কাসেমী চান্দিনার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

নেতাকর্মীদের কাছ থেকে চান্দিনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেন এবং অনিয়ম, দখল, মাদক, ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভা ইসলামী আন্দোলনের চান্দিনাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভা দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়। সর্বশেষ তিনি সারাজীবন চান্দিনার মানুষের পাশে থেকে খেদমত চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা প্রদান করেন।

​চান্দিনার বীরখালে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ‘গণবিচার’: জড়িতদের বয়কটের ঘোষণা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
​চান্দিনার বীরখালে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ‘গণবিচার’: জড়িতদের বয়কটের ঘোষণা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের বীরখাল গ্রামে মাদকের বিস্তার রোধে এক অভিনব ও সচেতনতামূলক ‘গণবিচার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যুবসমাজ ও সাধারণ গ্রামবাসী এই বিচারসভায় ঐক্যবদ্ধ হন।

​শনিবার (বা সাম্প্রতিক যেকোনো দিন) বীরখাল গ্রামে আয়োজিত এই গণবিচার সভায় বক্তারা বলেন, “মাদক আমাদের সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুবসমাজকে এই মরণব্যাধির ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”

​কঠোর সামাজিক বয়কটের হুঁশিয়ারি

​সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এলাকায় যারা মাদকের বেচাকেনা বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের সম্পূর্ণভাবে সমাজচ্যুত বা সামাজিক বয়কট করা হবে। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

​স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে সহযোগিতার হাত

​তবে অপরাধের শাস্তির পাশাপাশি সংশোধনের এক মানবিক সুযোগও রেখেছেন বীরখাল গ্রামবাসী। সভায় ঘোষণা করা হয়, কেউ যদি মাদকের অন্ধকার পথ ছেড়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, তবে তাকে সমাজ থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হবে না। বরং তাকে সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করা হবে, সমাজে তার মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তার পুনর্বাসনের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দেবে গ্রামবাসী।

​আন্দোলন ধরে রাখার অঙ্গীকার

​গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ জানান, বীরখাল গ্রামকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত তাদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন সামাজিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ ও প্রতিরোধ আগামীদিনেও অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।