রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: নিবন্ধিতদের মধ্যে ভোটে নেই ৯টি, দুর্বল ছোট দলগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: নিবন্ধিতদের মধ্যে ভোটে নেই ৯টি, দুর্বল ছোট দলগুলো

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না ৯টি দল। অংশগ্রহণকারী ২৯টি দলের মধ্যে অধিকাংশই ১ থেকে সর্বোচ্চ ২০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে ১০০টি আসনের বেশি প্রার্থী দিতে পেরেছে মাত্র পাঁচটি দল। উল্লেখ্য, যেসব দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তারা এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিক ১৪ দল অংশ নিচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর ভোটের আমেজ ফিরলেও এতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং নিবন্ধিত অনেক ছোট দল অংশ নিতে না পারা এবং প্রার্থী সংকটে ভোগার বিষয়টি প্রমাণ করে যে বড় দলগুলোর বাইরে শক্তিশালী বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে উঠছে না।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েই বিতর্ক রয়েছে। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ জোট ও বাম দলগুলো অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও সেটি অবাধ ও নিরপেক্ষ ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। একই সঙ্গে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ছাড়া ১৪ দলের অন্যান্য শরিক দলগুলোও নির্বাচনের বাইরে রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ভোটের মাঠে নেই ৯টি দল। দলগুলো হলো—তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ, আওয়ামী লীগ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, ন্যাপ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন।

নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে ২৩টি দলের প্রার্থী সংখ্যা ১ থেকে ১০টির মধ্যে সীমাবদ্ধ। বড় দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩৩১টি, জামায়াতে ইসলামী ২৭৬টি, জাতীয় পার্টি ২২৪টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১০০টির বেশি আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছে গণঅধিকার পরিষদ। তবে বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সমীকরণে এই সংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, অধিকাংশ দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল। মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম সীমিত থাকলেও নির্বাচনের সময় তারা বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলি বলেন, “কমপক্ষে ৩০টি দলের ১০ শতাংশ আসনে প্রার্থী দেওয়া উচিত ছিল। বাস্তবে তা দেখা যায় না। ফলে আমাদের দেশে প্রকৃত রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে ওঠেনি। দুই-তিনটি দলের বাইরে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল নেই।” তিনি আরও বলেন, দল নিবন্ধনের সময় শর্ত পূরণ করলেও অনেক দল পরবর্তী সময়ে তা নিয়মিতভাবে বজায় রাখে না।

তিনি প্রস্তাব করেন, যদি বছরে অন্তত একবার মাঠপর্যায়ে দলগুলোর কার্যক্রম পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা বিধিমালায় যুক্ত করা হয়, তবে দলগুলোকে সংগঠন ও কার্যক্রম সচল রাখতে বাধ্য হতে হবে।

অন্যদিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অনেক দল ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের দিয়ে কর্মসূচি আয়োজন করে সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে। আবার কেউ কেউ এটিকে ব্যক্তিগত পরিচিতি বাড়ানোর একটি মাধ্যম হিসেবে দেখেন।

এবার জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে আদর্শ ও জনসম্পৃক্ততা ছাড়া কেবল নির্বাচনকেন্দ্রিক দল গঠনের প্রবণতা ভোটারদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গৌরীপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ‘তালিম ও তারবিয়াত’ অনুষ্ঠিত।

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ‘তালিম ও তারবিয়াত’ অনুষ্ঠিত।

আদর্শবান, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গঠনের লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের অংশগ্রহণে মাসিক ‘তালিম ও তারবিয়াত’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​গৌরীপুরস্থ কুমিল্লা পশ্চিম জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে সংগঠনের জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীলদের আত্মশুদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে দাওয়ানি কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

​নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে একঝাঁক সৎ, দক্ষ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব তৈরি করা আজ সময়ের দাবি। সেই লক্ষ্যেই সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই সাংগঠনিক ও আত্মশুদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

​পরিশেষে, আল্লাহ তাআলার দরবারে এই তালিম ও তারবিয়াতকে কবুল করার এবং দ্বীনের খেদমতে সকলকে আরও কার্যকর ও অগ্রণী ভূমিকা পালনের তাওফীক কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

হজ্ব শেষে দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের খোজ নিলেন হাত পাখার প্রার্থী এহতেশামুল হক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
হজ্ব শেষে দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের খোজ নিলেন হাত পাখার প্রার্থী এহতেশামুল হক

হজ্ব শেষে দেশে ফিরে এহতেশামুল হক কাসেমী চান্দিনার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

নেতাকর্মীদের কাছ থেকে চান্দিনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেন এবং অনিয়ম, দখল, মাদক, ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভা ইসলামী আন্দোলনের চান্দিনাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভা দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়। সর্বশেষ তিনি সারাজীবন চান্দিনার মানুষের পাশে থেকে খেদমত চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা প্রদান করেন।

​চান্দিনার বীরখালে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ‘গণবিচার’: জড়িতদের বয়কটের ঘোষণা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
​চান্দিনার বীরখালে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ‘গণবিচার’: জড়িতদের বয়কটের ঘোষণা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের বীরখাল গ্রামে মাদকের বিস্তার রোধে এক অভিনব ও সচেতনতামূলক ‘গণবিচার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যুবসমাজ ও সাধারণ গ্রামবাসী এই বিচারসভায় ঐক্যবদ্ধ হন।

​শনিবার (বা সাম্প্রতিক যেকোনো দিন) বীরখাল গ্রামে আয়োজিত এই গণবিচার সভায় বক্তারা বলেন, “মাদক আমাদের সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুবসমাজকে এই মরণব্যাধির ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”

​কঠোর সামাজিক বয়কটের হুঁশিয়ারি

​সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এলাকায় যারা মাদকের বেচাকেনা বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের সম্পূর্ণভাবে সমাজচ্যুত বা সামাজিক বয়কট করা হবে। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

​স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে সহযোগিতার হাত

​তবে অপরাধের শাস্তির পাশাপাশি সংশোধনের এক মানবিক সুযোগও রেখেছেন বীরখাল গ্রামবাসী। সভায় ঘোষণা করা হয়, কেউ যদি মাদকের অন্ধকার পথ ছেড়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, তবে তাকে সমাজ থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হবে না। বরং তাকে সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করা হবে, সমাজে তার মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তার পুনর্বাসনের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দেবে গ্রামবাসী।

​আন্দোলন ধরে রাখার অঙ্গীকার

​গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ জানান, বীরখাল গ্রামকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত তাদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন সামাজিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ ও প্রতিরোধ আগামীদিনেও অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।