রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হাওরে বোরো আবাদে শঙ্কার মেঘ: শীত-কুয়াশার পর এবার সার ও শ্রমিক সংকটে দিশেহারা কৃষক

নূর আহাম্মদ পলাশ  প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাওরে বোরো আবাদে শঙ্কার মেঘ: শীত-কুয়াশার পর এবার সার ও শ্রমিক সংকটে দিশেহারা কৃষক
চলতি বোরো মৌসুমে কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামসহ বৃহত্তর হাওর অঞ্চলে বোরো ধানের চারা রোপণ চললেও অতি মাত্রার শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে কিছুদিন ধরে কৃষি কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। এর মধ্যেই নতুন করে কৃষকদের প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র সার সংকট।
কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ খোলা বাজারে পর্যাপ্ত সার মিললেও তা ন্যায্য মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফসল উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ ডিসেম্বর রাতে মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোর ইউনিয়নে জনগণের হাতে এক ট্রাক অবৈধ সার আটক হওয়ার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারদের যোগসাজশে অধিক মুনাফা ও অবৈধ আয়ের উদ্দেশ্যে কৃষকদের ন্যায্য মূল্যের সার না দিয়ে খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম ভাটি অঞ্চলে সার সংকট নতুন নয়। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম, সীমিত ডিলারশিপ এবং হাওরের দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বোরো মৌসুম এলেই সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। যদিও সাম্প্রতিক সড়ক উন্নয়নে যোগাযোগ কিছুটা সহজ হয়েছে, তবুও বাস্তব সংকট কাটেনি।
সরকার সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা–২০২৫ প্রণয়নের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেও মাঠপর্যায়ে এর সুফল এখনো পুরোপুরি পৌঁছায়নি বলে দাবি কৃষকদের। তারা আশঙ্কা করছেন, সময়মতো পর্যাপ্ত সার না পেলে চলতি মৌসুমে বোরো উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সাধারণ কৃষকদের একটাই দাবি সঠিক সময়ে, ন্যায্য মূল্যে এবং পর্যাপ্ত সার নিশ্চিত করা হোক, যাতে হাওর অঞ্চলের বোরো আবাদ ও কৃষকের জীবন-জীবিকা রক্ষা পায়।
এছাড়া ও শ্রমিক সংকটোর কারনে ক্ষেতে কাজ করতে পারছেন না। বোরো মৌসুমে জমি তৈরি থেকে শুরু করে জমিতে চারা গাছ লাগানো পর্যন্ত অনেকগুলি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়, যেখানে অনেক শ্রমিক লাগে। ফাইজুল নামে একজন কৃষক বলেন, বর্তমানে ক্ষেতে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা। মানুষ এখন শহরমুখী হয়ে গেছে। গ্রামের শ্রমিকেরা শহরে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কাজ করছেন, তাই শ্রমিক সংকটের কারনে আমরা  ক্ষেতে কাজ করতে পারছিনা।

গৌরীপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ‘তালিম ও তারবিয়াত’ অনুষ্ঠিত।

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ‘তালিম ও তারবিয়াত’ অনুষ্ঠিত।

আদর্শবান, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গঠনের লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের অংশগ্রহণে মাসিক ‘তালিম ও তারবিয়াত’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​গৌরীপুরস্থ কুমিল্লা পশ্চিম জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে সংগঠনের জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীলদের আত্মশুদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে দাওয়ানি কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

​নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে একঝাঁক সৎ, দক্ষ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব তৈরি করা আজ সময়ের দাবি। সেই লক্ষ্যেই সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই সাংগঠনিক ও আত্মশুদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

​পরিশেষে, আল্লাহ তাআলার দরবারে এই তালিম ও তারবিয়াতকে কবুল করার এবং দ্বীনের খেদমতে সকলকে আরও কার্যকর ও অগ্রণী ভূমিকা পালনের তাওফীক কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

হজ্ব শেষে দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের খোজ নিলেন হাত পাখার প্রার্থী এহতেশামুল হক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
হজ্ব শেষে দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের খোজ নিলেন হাত পাখার প্রার্থী এহতেশামুল হক

হজ্ব শেষে দেশে ফিরে এহতেশামুল হক কাসেমী চান্দিনার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

নেতাকর্মীদের কাছ থেকে চান্দিনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেন এবং অনিয়ম, দখল, মাদক, ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভা ইসলামী আন্দোলনের চান্দিনাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভা দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়। সর্বশেষ তিনি সারাজীবন চান্দিনার মানুষের পাশে থেকে খেদমত চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা প্রদান করেন।

​চান্দিনার বীরখালে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ‘গণবিচার’: জড়িতদের বয়কটের ঘোষণা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
​চান্দিনার বীরখালে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ‘গণবিচার’: জড়িতদের বয়কটের ঘোষণা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের বীরখাল গ্রামে মাদকের বিস্তার রোধে এক অভিনব ও সচেতনতামূলক ‘গণবিচার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যুবসমাজ ও সাধারণ গ্রামবাসী এই বিচারসভায় ঐক্যবদ্ধ হন।

​শনিবার (বা সাম্প্রতিক যেকোনো দিন) বীরখাল গ্রামে আয়োজিত এই গণবিচার সভায় বক্তারা বলেন, “মাদক আমাদের সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুবসমাজকে এই মরণব্যাধির ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”

​কঠোর সামাজিক বয়কটের হুঁশিয়ারি

​সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এলাকায় যারা মাদকের বেচাকেনা বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের সম্পূর্ণভাবে সমাজচ্যুত বা সামাজিক বয়কট করা হবে। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

​স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে সহযোগিতার হাত

​তবে অপরাধের শাস্তির পাশাপাশি সংশোধনের এক মানবিক সুযোগও রেখেছেন বীরখাল গ্রামবাসী। সভায় ঘোষণা করা হয়, কেউ যদি মাদকের অন্ধকার পথ ছেড়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, তবে তাকে সমাজ থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হবে না। বরং তাকে সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করা হবে, সমাজে তার মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তার পুনর্বাসনের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দেবে গ্রামবাসী।

​আন্দোলন ধরে রাখার অঙ্গীকার

​গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ জানান, বীরখাল গ্রামকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত তাদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন সামাজিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ ও প্রতিরোধ আগামীদিনেও অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।