মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

হাদী হত্যার ঘটনায় আদালত সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাদী হত্যার ঘটনায় আদালত সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অধিকতর তদন্ত করে আগামী ২০ জানুয়ারিের মধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এর আদালত এ আদেশ দেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মামলাটির তদন্ত করছিল ডিবি পুলিশ। তবে ডিবির তদন্তে সন্তুষ্ট না হওয়ায় আদালতে আজ নারাজির আবেদন করেন মামলার বাদী, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। নারাজির আবেদন শুনানি শেষে আদালত তদন্তের দায়িত্ব সিআইডি-কে দেয়।

নারাজির আবেদন দাখিলের সময় আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, “এই চার্জশিটে তদন্ত কর্মকর্তার কাজ কেবল জমা দেওয়ার জন্য। মূল হত্যার পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে শুটারদের সম্পর্ক উল্লেখ করা হয়নি। হাদি কোনো সাধারণ ব্যক্তি ছিলেন না। তাকে হত্যার জন্য অবশ্যই বড় পরিকল্পনা ছিল। প্রকাশ্যে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়েছে যাতে কেউ তার মতো ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস না পায়। পুলিশের চার্জশিটে শুধু একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলের কথা বলা হয়েছে, যা হাস্যকর।”

তিনি আরও বলেন, “চেক জব্দের মতো বিষয় দেখানো হয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার পর হত্যাকারী কীভাবে নিরাপদে পালালো, তা উল্লেখ নেই। হাদী ন্যায় বিচারের কথা বারবার বলতেন, এবং তাকে হত্যা করা হলে ন্যায় বিচার চেয়েছিলেন। এই কারণে আমরা নারাজি দিয়েছি।”

গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে বাদী আদালতে হাজির হয়ে চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় নেন। আদালত ওইদিন চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতার শুনানি ধার্য করেন।

চার্জশিটের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ। এছাড়া পলাতক রয়েছেন– ফয়সালের সহযোগী আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্নাল ফিলিপস, মুক্তি আক্তার, এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার

বাকি ১১ আসামি কারাগারে আটক রয়েছেন। তারা হলেন– ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কবির, সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু, এবং নরসিংদীতে অস্ত্রসহ আটক মো. ফয়সাল

তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে পলাতক ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আবেদন করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শরীফ ওসমান হাদী অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২:২০ মিনিটে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তার মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর হাদীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে মামলা হত্যার মামলায় রূপান্তরিত হয়।

চান্দিনা এক্সপ্রেস’-এর যাত্রায় ৬নং বাড়েরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রয়েল মিয়ার শুভেচ্ছা)।

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
চান্দিনা এক্সপ্রেস’-এর যাত্রায় ৬নং বাড়েরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রয়েল মিয়ার শুভেচ্ছা)।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘চান্দিনা এক্সপ্রেস’-এর আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হওয়ায় আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ৬নং বাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ রয়েল মিয়া (রাফি)। এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি পোর্টালটির সম্মানিত সম্পাদক, প্রকাশক, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে এই শুভ ক্ষণে শুভকামনা জানান।

​চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ রয়েল মিয়া (রাফি) বলেন,

​”‘চান্দিনা এক্সপ্রেস’ নামে নতুন একটি নিউজ পোর্টালের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি শুধু একটি ওয়েবসাইটের উদ্বোধন নয়, বরং চান্দিনার মাটি ও মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার এক নতুন প্রত্যয় হিসেবে কাজ করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।”

​ডিজিটাল যুগের চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষ তাৎক্ষণিক, নির্ভুল এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রত্যাশা করে। চান্দিনার সুখ-দুঃখ, স্থানীয় সমস্যা ও অমিত সম্ভাবনার কথা সারা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে ‘চান্দিনা এক্সপ্রেস’ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

​শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, “সত্য প্রকাশে আপোষহীন”—এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারণ করে পোর্টালটি খুব দ্রুতই চান্দিনাবাসীর হৃদয়ে জায়গা করে নেবে এবং সর্বস্তরের মানুষের আস্থা অর্জন করবে।

​সর্বশেষে, তিনি ৬নং বাড়েরা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে ‘চান্দিনা এক্সপ্রেস’ পরিবারের সবার উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং বলেন, “চান্দিনা এক্সপ্রেস এগিয়ে যাক, চান্দিনার মানুষের কথা বলুক।”

“সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারাবাহিকতায় চান্দিনা এক্সপ্রেস উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধির শিখরে আরোহণ করুক—এই শুভকামনা রইল।” — মাওলানা মুহাম্মদ মাহদী হাসান তরুণ আলেম, সংগঠক ও সমাজসেবক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
“সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারাবাহিকতায় চান্দিনা এক্সপ্রেস উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধির শিখরে আরোহণ করুক—এই শুভকামনা রইল।” — মাওলানা মুহাম্মদ মাহদী হাসান তরুণ আলেম, সংগঠক ও সমাজসেবক

“সাহসিকতার সাথে সত্য সংবাদ পরিবেশনে বদ্ধপরিকর”
জনপদের প্রতিটি সমস্যা, সম্ভাবনা, সুখ-দুঃখ এবং সাধারণ মানুষের মনের আকুতি জনকণ্ঠ হয়ে তুলে ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে চান্দিনা এক্সপ্রেস।
সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠতার আলোকে সংবাদ পরিবেশন করে জনগণের আস্থা অর্জন করাই একটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের মূল লক্ষ্য। অবহেলিত মানুষের কথা, সমাজের বাস্তব চিত্র এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নির্ভীকভাবে তুলে ধরে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে চান্দিনা এক্সপ্রেস।
একটি গণমাধ্যম কেবল সংবাদ পরিবেশন করে না; বরং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন, সচেতনতা ও উন্নয়নের পথকে আরও সুগম করে। ন্যায়নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব সাংবাদিকতার আদর্শ ধারণ করে চান্দিনা এক্সপ্রেস আগামী দিনে আরও সমৃদ্ধ ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে—এই প্রত্যাশা রাখি।
“সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারাবাহিকতায় চান্দিনা এক্সপ্রেস উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধির শিখরে আরোহণ করুক—এই শুভকামনা রইল।”

উন্মাদনার ফুটবল বনাম ক্ষুধার পৃথিবী: খোলস-মানুষের চশমায় ঢাকা মনুষ্যত্ব

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
উন্মাদনার ফুটবল বনাম ক্ষুধার পৃথিবী: খোলস-মানুষের চশমায় ঢাকা মনুষ্যত্ব

একদিকে মাঠের সবুজ ঘাসে ২২০ বিলিয়ন ডলারের ঝনঝনানি, অন্যদিকে একবেলা আহারের অপেক্ষায় থাকা কোটি কোটি শিশুর নিস্তব্ধ হাহাকার। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল বিশ্বকে যেমন এক অভূতপূর্ব উন্মাদনায় ভাসিয়েছিল, ঠিক তেমনি উন্মোচিত করে দিয়েছে আধুনিক সভ্যতার এক নির্মম ও কুৎসিত বৈপরীত্য।

​জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলির একটি হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলার খরচ করলেই পৃথিবীর প্রায় ৮২ কোটি ৮০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের মৌলিক খাদ্যচাহিদা সম্পূর্ণ পূরণ করা সম্ভব। গাণিতিক হিসেবে, কাতার বিশ্বকাপের পেছনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা দিয়ে বিশ্বের সমগ্র ক্ষুধা অন্তত সাড়ে পাঁচ বছর দূর করা যেত।

​উৎসবের আড়ালে ঢাকা পড়া কঙ্কাল

​যে বিশ্বে প্রতি রাতে কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত পেটে ঘুমাতে যায়, সেই বিশ্বে স্রেফ একটি ২৮ দিনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পেছনে ২২০ বিলিয়ন ডলারের বিপুল অপচয় এক চরম উপহাস। বিশ্বজুড়ে কর্পোরেট পরাশক্তি, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত এই উন্মাদনা প্রমাণ করে, বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থা কতটা বিবেকহীন ও ভোগবাদী মানসিকতায় আক্রান্ত। একটি খেলার আনন্দ কোটি প্রাণ বাঁচানোর চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে তথাকথিত এই ‘সভ্য’ সমাজে।