রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জে বিশ্ব জলাভূমি দিবস- ২০২৬ উদযাপন: সুরমা জলমহাল সংরক্ষিত ঘোষণার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জে বিশ্ব জলাভূমি দিবস- ২০২৬ উদযাপন: সুরমা জলমহাল সংরক্ষিত ঘোষণার দাবি

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) কিশোরগঞ্জ হাওরের ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নে বিশ্ব জলাভূমি দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিলো জলাভূমি, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন।

দিবসটি উপযাপন উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০ টায় উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের দীনেশ পুর গ্রামে সুরমা নদীর পাড়ে স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠন উত্তর দীনেশপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ “সুরমা বিলবাসীর বংশ পরম্পরা অভিজ্ঞতা ও জীবন চর্চার আলাপ” শিরোনামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বেসরকারী সংগঠন পরিবেশ ঐক্যের কারিগরী সহযোগিতায় ও ধনু ইকো ট্যুরিজমের অংশীদারিত্বে এই কর্মসূচিতে সুরমা তীরবর্তী বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ ও শিশু সহ স্থানীয় মৎস্যজীবি সম্প্রদায়ের সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন।

সুরমা তীরের প্রবীণ মৎস্যজীবি বাসিন্দারা জানান, হাওরের প্রাকৃতিক মাছের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে খ্যাত সুরমা এখন মাছশূন্য হতে চলেছে। দেশীয় প্রজাতির অনেক সাধারণ মাছও আর নেই বললে চলে। গত কয়েক বছরে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার এতটাই কমে এসেছে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মৎস্যচাষীরা এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন।
তারা বলেন, একসময় এই সুরমা পানকৌড়ি, বালিহাঁস, বক, শামুকখোলের পাখায় ঢেকে যেতো। প্রচুর কচ্ছপও পাওয়া যেতো । এখন নামমাত্র কিছু পাখি অবশিষ্ট আছে, পরিযায়ী পাখিও আসেনা খুব একটা।

পলি প্রবাহের কারণে নাব্যতা হ্রাস, পরিবেশ উপযোগী বৃক্ষরোপণ না করার পাশাপাশি ফসলের জমিতে কীটনাশক ও বেআইনি মাছ শিকারের জালকে সুরমার বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তারা। এমনটি চলতে থাকলে, আগামী কয়েক বছরে মাছ ও পাখি শূণ্য হওয়ার আশংকা রয়েছে। সুরমার এ বিপর্যয় কেবল পরিবেশ বিপর্যয়ই না, এতে করে নিজেদের ভবিষ্যত কর্মসংস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যগণ।

আলাপের শেষে, জীবন জীবিকার স্বার্থে সুরমা বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রতিবেশ পুনুরুদ্ধারে গ্রামবাসী ও মৎস্যজীবি সমিতির সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সেইসাথে, অনতিবিলম্বে সুরমা বিলকে সংরক্ষিত ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি ইটনা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে সরকারের উর্ধতন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি আবেদন প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গৌরীপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ‘তালিম ও তারবিয়াত’ অনুষ্ঠিত।

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ‘তালিম ও তারবিয়াত’ অনুষ্ঠিত।

আদর্শবান, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গঠনের লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের অংশগ্রহণে মাসিক ‘তালিম ও তারবিয়াত’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​গৌরীপুরস্থ কুমিল্লা পশ্চিম জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে সংগঠনের জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীলদের আত্মশুদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে দাওয়ানি কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

​নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে একঝাঁক সৎ, দক্ষ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব তৈরি করা আজ সময়ের দাবি। সেই লক্ষ্যেই সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই সাংগঠনিক ও আত্মশুদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

​পরিশেষে, আল্লাহ তাআলার দরবারে এই তালিম ও তারবিয়াতকে কবুল করার এবং দ্বীনের খেদমতে সকলকে আরও কার্যকর ও অগ্রণী ভূমিকা পালনের তাওফীক কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

হজ্ব শেষে দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের খোজ নিলেন হাত পাখার প্রার্থী এহতেশামুল হক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
হজ্ব শেষে দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের খোজ নিলেন হাত পাখার প্রার্থী এহতেশামুল হক

হজ্ব শেষে দেশে ফিরে এহতেশামুল হক কাসেমী চান্দিনার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

নেতাকর্মীদের কাছ থেকে চান্দিনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেন এবং অনিয়ম, দখল, মাদক, ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভা ইসলামী আন্দোলনের চান্দিনাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভা দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়। সর্বশেষ তিনি সারাজীবন চান্দিনার মানুষের পাশে থেকে খেদমত চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা প্রদান করেন।

​চান্দিনার বীরখালে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ‘গণবিচার’: জড়িতদের বয়কটের ঘোষণা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
​চান্দিনার বীরখালে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ‘গণবিচার’: জড়িতদের বয়কটের ঘোষণা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের বীরখাল গ্রামে মাদকের বিস্তার রোধে এক অভিনব ও সচেতনতামূলক ‘গণবিচার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যুবসমাজ ও সাধারণ গ্রামবাসী এই বিচারসভায় ঐক্যবদ্ধ হন।

​শনিবার (বা সাম্প্রতিক যেকোনো দিন) বীরখাল গ্রামে আয়োজিত এই গণবিচার সভায় বক্তারা বলেন, “মাদক আমাদের সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুবসমাজকে এই মরণব্যাধির ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”

​কঠোর সামাজিক বয়কটের হুঁশিয়ারি

​সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এলাকায় যারা মাদকের বেচাকেনা বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের সম্পূর্ণভাবে সমাজচ্যুত বা সামাজিক বয়কট করা হবে। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

​স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে সহযোগিতার হাত

​তবে অপরাধের শাস্তির পাশাপাশি সংশোধনের এক মানবিক সুযোগও রেখেছেন বীরখাল গ্রামবাসী। সভায় ঘোষণা করা হয়, কেউ যদি মাদকের অন্ধকার পথ ছেড়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, তবে তাকে সমাজ থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হবে না। বরং তাকে সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করা হবে, সমাজে তার মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তার পুনর্বাসনের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দেবে গ্রামবাসী।

​আন্দোলন ধরে রাখার অঙ্গীকার

​গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ জানান, বীরখাল গ্রামকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত তাদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন সামাজিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ ও প্রতিরোধ আগামীদিনেও অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।