রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঈদ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৬ পরিবার পাবে ভিজিএফের চাল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঈদ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৬ পরিবার পাবে ভিজিএফের চাল

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে গরিব, দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির আওতায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৬টি পরিবারকে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করা হবে। এ জন্য সরকার মোট ৪ হাজার ৫৫০ দশমিক ৫৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। প্রতিটি পরিবার ঈদের আগেই ১০ কেজি করে চাল পাবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলা ও ৮টি পৌরসভার হতদরিদ্র পরিবারগুলো ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় এই চাল পাবে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরকার প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের হতদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করে থাকে। এ লক্ষ্যে ঈদের আগেই জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়, যাতে গ্রামের গরিব ও অসহায় পরিবারগুলো ঈদের সময় খাদ্য সংকটে না পড়ে।

কিশোরগঞ্জের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জেলার ১৩টি উপজেলা ও ৮টি পৌরসভায় মোট ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৬টি হতদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে চাল বরাদ্দসংক্রান্ত চিঠি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছেছে।

তিনি আরও জানান, জেলার ১৩টি উপজেলার ১০৮টি ইউনিয়ন এবং ৮টি পৌরসভার মাধ্যমে ঈদের আগেই ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হবে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাগুলোর মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হবে।

পৌরসভার শ্রেণিভেদ অনুযায়ী চাল বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। পৌরসভার প্রশাসক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করবেন এবং উপজেলা কমিটির মাধ্যমে তা বিতরণ করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে খাদ্য সংকটে থাকা মানুষ, দিনমজুর, গৃহহীন পরিবার এবং অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ সহায়তা পাবেন।

ইতোমধ্যে জেলার হোসেনপুর উপজেলায় ইউনিয়নভিত্তিক চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গোবিন্দপুর ইউনিয়নে ৭ হাজার ৪৪৪ জনের জন্য ৭৪.৪৪ মেট্রিক টন, জিনারী ইউনিয়নে ৪ হাজার ৬৮১ জনের জন্য ৪৬.৮১ মেট্রিক টন, সিদলা ইউনিয়নে ৬ হাজার ৩৪৭ জনের জন্য ৬৩.৪৭ মেট্রিক টন, আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নে ২ হাজার ৪৭ জনের জন্য ২০.৪৭ মেট্রিক টন, শাহেদল ইউনিয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ জনের জন্য ৩৭.৬৭ মেট্রিক টন এবং পুমদী ইউনিয়নে ৫ হাজার ৯৫৪ জনের জন্য ৫৯.৫৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হোসেনপুর পৌরসভায় ৩ হাজার ৮৫ জনের জন্য ৩০.৮৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা জানান, ভিজিএফের চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, কারচুপি বা মাপে কম দেওয়া বরদাশত করা হবে না। প্রত্যেক কার্ডধারী হতদরিদ্র পরিবার সঠিক মাপে ১০ কেজি করে চাল পাবে বলে তিনি জানান।

গৌরীপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ‘তালিম ও তারবিয়াত’ অনুষ্ঠিত।

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ‘তালিম ও তারবিয়াত’ অনুষ্ঠিত।

আদর্শবান, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গঠনের লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের অংশগ্রহণে মাসিক ‘তালিম ও তারবিয়াত’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​গৌরীপুরস্থ কুমিল্লা পশ্চিম জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে সংগঠনের জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীলদের আত্মশুদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে দাওয়ানি কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

​নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে একঝাঁক সৎ, দক্ষ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব তৈরি করা আজ সময়ের দাবি। সেই লক্ষ্যেই সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই সাংগঠনিক ও আত্মশুদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

​পরিশেষে, আল্লাহ তাআলার দরবারে এই তালিম ও তারবিয়াতকে কবুল করার এবং দ্বীনের খেদমতে সকলকে আরও কার্যকর ও অগ্রণী ভূমিকা পালনের তাওফীক কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

হজ্ব শেষে দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের খোজ নিলেন হাত পাখার প্রার্থী এহতেশামুল হক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
হজ্ব শেষে দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের খোজ নিলেন হাত পাখার প্রার্থী এহতেশামুল হক

হজ্ব শেষে দেশে ফিরে এহতেশামুল হক কাসেমী চান্দিনার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

নেতাকর্মীদের কাছ থেকে চান্দিনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেন এবং অনিয়ম, দখল, মাদক, ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভা ইসলামী আন্দোলনের চান্দিনাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভা দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়। সর্বশেষ তিনি সারাজীবন চান্দিনার মানুষের পাশে থেকে খেদমত চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা প্রদান করেন।

​চান্দিনার বীরখালে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ‘গণবিচার’: জড়িতদের বয়কটের ঘোষণা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
​চান্দিনার বীরখালে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ‘গণবিচার’: জড়িতদের বয়কটের ঘোষণা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের বীরখাল গ্রামে মাদকের বিস্তার রোধে এক অভিনব ও সচেতনতামূলক ‘গণবিচার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যুবসমাজ ও সাধারণ গ্রামবাসী এই বিচারসভায় ঐক্যবদ্ধ হন।

​শনিবার (বা সাম্প্রতিক যেকোনো দিন) বীরখাল গ্রামে আয়োজিত এই গণবিচার সভায় বক্তারা বলেন, “মাদক আমাদের সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুবসমাজকে এই মরণব্যাধির ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”

​কঠোর সামাজিক বয়কটের হুঁশিয়ারি

​সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এলাকায় যারা মাদকের বেচাকেনা বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের সম্পূর্ণভাবে সমাজচ্যুত বা সামাজিক বয়কট করা হবে। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

​স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে সহযোগিতার হাত

​তবে অপরাধের শাস্তির পাশাপাশি সংশোধনের এক মানবিক সুযোগও রেখেছেন বীরখাল গ্রামবাসী। সভায় ঘোষণা করা হয়, কেউ যদি মাদকের অন্ধকার পথ ছেড়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, তবে তাকে সমাজ থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হবে না। বরং তাকে সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করা হবে, সমাজে তার মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তার পুনর্বাসনের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দেবে গ্রামবাসী।

​আন্দোলন ধরে রাখার অঙ্গীকার

​গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ জানান, বীরখাল গ্রামকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত তাদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন সামাজিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ ও প্রতিরোধ আগামীদিনেও অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।