মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসরের ফাইনালে উঠল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বুধবার ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে বাংলাদেশের হয়ে দুটি গোল করেন ঋতুপর্ণা চাকমা ও সাগরিকা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সাগরিকার জয়সূচক গোলে উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ শিবির।

ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য সুখকর ছিল না। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নেপাল। বাংলাদেশের রক্ষণভাগ বেশ কিছুক্ষণ প্রতিপক্ষের চাপ সামাল দিলেও শেষ পর্যন্ত গোল হজম এড়াতে পারেনি।

ম্যাচের ২৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় নেপাল। বাংলাদেশের ডি-বক্সে সৃষ্ট জটলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে গিতা রানা বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া দারুণ এক কোনাকুনি শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নেপাল।

গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। মাঝমাঠের বদলে দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন ঋতুপর্ণা, সাগরিকা ও সামসুন্নাহাররা। তবে নেপালের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডদের।

অবশেষে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে আসে কাঙ্ক্ষিত সমতা। কর্নার কিক থেকে সরাসরি বল জালে জড়িয়ে অসাধারণ এক ‘অলিম্পিক গোল’ করেন ঋতুপর্ণা চাকমা। তার দুর্দান্ত এই গোলে ১-১ সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে বিরতিতে যায় দল।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচকে আরও জমিয়ে তোলে। খেলার শুরুতেই আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। ফরোয়ার্ড রেখা গোলরক্ষক মিলি আক্তারকে পরাস্ত করে বল জালের দিকে পাঠালেও ভাগ্য সহায় হয়নি। বল গিয়ে আঘাত হানে গোলপোস্টে।

অন্যদিকে বাংলাদেশেরও একাধিক সুযোগ তৈরি হয়। ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে সাগরিকার নেওয়া শক্তিশালী শট দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন নেপালের গোলরক্ষক সুব্বা। ফলে ম্যাচে সমতা বজায় থাকে।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে যোগ করা হয় ছয় মিনিট। অতিরিক্ত সময়ের শেষ ভাগে আসে বাংলাদেশের বিজয়সূচক গোল। ডান প্রান্ত দিয়ে গড়ে ওঠা আক্রমণে সামসুন্নাহার জুনিয়রের বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে বল জালে পাঠান সাগরিকা। তার এই গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকরা। রুদ্ধশ্বাস এই জয় নিশ্চিত করে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, এর আগে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ দুই আসরেও ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, দুইবারই শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজের মেয়েরা। সেই দুইবারই ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল নেপাল। এবারও নেপালকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

আজ চান্দিনায় ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন, আসছেন হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেমরা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
আজ চান্দিনায় ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন, আসছেন হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেমরা

কুমিল্লার চান্দিনায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চান্দিনা থানা কওমী মাদরাসা সংগঠনের উদ্যোগে ২৬তম বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন। সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও ইসলামী বক্তাদের উপস্থিতি ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আয়োজকদের প্রকাশিত পোস্টার অনুযায়ী, ২ নভেম্বর, সোমবার দুপুর ২টায় চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনে বয়ান পেশ করার কথা রয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মাওলানা রেজাউল করীম আবরার, আল্লামা নুরুল ইসলাম অলিপুরী এবং মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীর।

এছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন আল্লামা নুরুল হক, আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, আল্লামা আশেকে এলাহী, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা নজিব আহমদ, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সিরাজী, মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মুফতি দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ ও মুফতি রেজাউল করীম আবরারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট আলেম-ওলামাগণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন হাফেজ মাওলানা আহমাদুল্লাহ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মাওলানা এমদাদ উল্লাহ খান।

উল্লেখ্য, চান্দিনা থানা কওমী মাদরাসা সংগঠন সফলতার সঙ্গে ৩৪ বছর পথচলা অতিক্রম করেছে। সংগঠনটির ২৬তম বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এ সম্মেলনে দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে চান্দিনা ও আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যথাসময়ে সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্মেলনের স্থান: চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, চান্দিনা, কুমিল্লা।সময়: দুপুর ২টা। তারিখ: ২৬ নভেম্বর, সোমবার (পোস্টারের তথ্য অনুযায়ী)।

আলিম পরীক্ষায় তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২ জন!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
আলিম পরীক্ষায় তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২ জন!

কুমিল্লার চান্দিনা থানার তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এবারের আলিম পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাস করেছে মাত্র ২ জন। সে হিসাবে পাসের হার মাত্র ২০ শতাংশ।

এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জনই অকৃতকার্য হওয়ায় এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, পাঠদানে অনিয়মসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ক্লাস বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহনের অভিযোগ তুলছেন অনেকে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলের পেছনে প্রকৃত কারণ কী? শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ঘাটতি, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, নাকি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কোনো ধরনের দুর্বলতা রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। শিক্ষার মানোন্নয়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার বাজার এলাকায় ড্রেন পরিষ্কারের পর ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখায় পথচারী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ড্রেন পরিষ্কারের বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তন করে তাৎক্ষণিকভাবে ময়লা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন চান্দিনা পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তার।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ড্রেন পরিষ্কারের সময় ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখার পরিবর্তে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা জরুরি। বিশেষ করে তরল প্রকৃতির ময়লা প্লাস্টিকের কাটা হাফড্রামে সংগ্রহ করে ট্রলি বা ট্রাক্টরের মাধ্যমে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ফজলুল সাত্তার মনে করেন, ড্রেন পরিষ্কারের নামে পরিবেশ দূষণ ও পথচারীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে কয়েক দিন পর LAISE প্রশিক্ষণ শেষ হলে সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভার প্রতিটি খাতে আধুনিক পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন ফজলুল সাত্তার। নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, পৌরবাসীর সেবা করাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল নয়।

এ ছাড়া চাঁদাবাজি, সালিস-দরবারে ঘুষ বাণিজ্য এবং দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। এসব অনিয়ম বন্ধ করে পৌরবাসীর জন্য একটি সেবামুখী পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই মেয়র পদপ্রার্থী।

চান্দিনা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে তাঁর এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে ড্রেনের ময়লা ব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।