রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ডেঙ্গু রোধে সচেতনতার ডাক, করিমগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ডেঙ্গু রোধে সচেতনতার ডাক, করিমগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার বিস্তার রোধে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখি, ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে শনিবার সকাল ১০টায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা নিধন এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়। র‍্যালির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতা, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের করণীয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জনসাধারণের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—ফুলের টব, পুরোনো টায়ার, ডাবের খোসা, বালতি বা যেকোনো পাত্রে তিন দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়া, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এছাড়া দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, জ্বর হলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক উম্মে মুসলিমা বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এজন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ। ‘নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখি, ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’—এই বার্তাকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলতে হবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে।”

তিনি আরও বলেন, “করিমগঞ্জকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভা নিধন কার্যক্রম এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রিয়াদ শাহেদ রনি বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। অনেকেই সাধারণ জ্বর মনে করে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন, যা পরবর্তীতে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।”

তিনি আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের আহ্বান জানান।

গৌরীপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ‘তালিম ও তারবিয়াত’ অনুষ্ঠিত।

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
গৌরীপুরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ‘তালিম ও তারবিয়াত’ অনুষ্ঠিত।

আদর্শবান, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গঠনের লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের অংশগ্রহণে মাসিক ‘তালিম ও তারবিয়াত’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​গৌরীপুরস্থ কুমিল্লা পশ্চিম জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে সংগঠনের জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীলদের আত্মশুদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে দাওয়ানি কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

​নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে একঝাঁক সৎ, দক্ষ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব তৈরি করা আজ সময়ের দাবি। সেই লক্ষ্যেই সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই সাংগঠনিক ও আত্মশুদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

​পরিশেষে, আল্লাহ তাআলার দরবারে এই তালিম ও তারবিয়াতকে কবুল করার এবং দ্বীনের খেদমতে সকলকে আরও কার্যকর ও অগ্রণী ভূমিকা পালনের তাওফীক কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

হজ্ব শেষে দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের খোজ নিলেন হাত পাখার প্রার্থী এহতেশামুল হক

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
হজ্ব শেষে দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের খোজ নিলেন হাত পাখার প্রার্থী এহতেশামুল হক

হজ্ব শেষে দেশে ফিরে এহতেশামুল হক কাসেমী চান্দিনার নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

নেতাকর্মীদের কাছ থেকে চান্দিনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করেন এবং অনিয়ম, দখল, মাদক, ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভা ইসলামী আন্দোলনের চান্দিনাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভা দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়। সর্বশেষ তিনি সারাজীবন চান্দিনার মানুষের পাশে থেকে খেদমত চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা প্রদান করেন।

​চান্দিনার বীরখালে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ‘গণবিচার’: জড়িতদের বয়কটের ঘোষণা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
​চান্দিনার বীরখালে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর ‘গণবিচার’: জড়িতদের বয়কটের ঘোষণা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের বীরখাল গ্রামে মাদকের বিস্তার রোধে এক অভিনব ও সচেতনতামূলক ‘গণবিচার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যুবসমাজ ও সাধারণ গ্রামবাসী এই বিচারসভায় ঐক্যবদ্ধ হন।

​শনিবার (বা সাম্প্রতিক যেকোনো দিন) বীরখাল গ্রামে আয়োজিত এই গণবিচার সভায় বক্তারা বলেন, “মাদক আমাদের সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুবসমাজকে এই মরণব্যাধির ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”

​কঠোর সামাজিক বয়কটের হুঁশিয়ারি

​সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, এলাকায় যারা মাদকের বেচাকেনা বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের সম্পূর্ণভাবে সমাজচ্যুত বা সামাজিক বয়কট করা হবে। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

​স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে সহযোগিতার হাত

​তবে অপরাধের শাস্তির পাশাপাশি সংশোধনের এক মানবিক সুযোগও রেখেছেন বীরখাল গ্রামবাসী। সভায় ঘোষণা করা হয়, কেউ যদি মাদকের অন্ধকার পথ ছেড়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, তবে তাকে সমাজ থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হবে না। বরং তাকে সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করা হবে, সমাজে তার মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তার পুনর্বাসনের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দেবে গ্রামবাসী।

​আন্দোলন ধরে রাখার অঙ্গীকার

​গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ জানান, বীরখাল গ্রামকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত তাদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন সামাজিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ ও প্রতিরোধ আগামীদিনেও অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।