ক্ষমতার পালাবদল: শুধু বদলায় রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’
বাংলাদেশে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও দেশের মূলধারার গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার একটি চিরচেনা অভ্যাসের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। যেকোনো বড় অপরাধকে অপরাধী বা অপরাধ হিসেবে না দেখে, সব সময় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ‘ট্যাগ’ লাগিয়ে প্রচার করা এবং পরবর্তীতে ভিউ বা চটকদার কাটতির পেছনে ছোটা দেশের একপেশে সাংবাদিকতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষমতার পালাবদল: শুধু বদলায় রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে দেশে সংঘটিত যেকোনো ধর্ষণ, খুন, মারামারি, দখলদারিত্ব বা চাঁদাবাজির ঘটনার পেছনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতাকে সামনে আনা হতো।
কিন্তু ৫ আগস্টের পর দেশে ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও অপরাধের ধরণ বা তীব্রতা কমেনি। অথচ, নাটকীয়ভাবে গণমাধ্যমের উপস্থাপনা বদলে গেছে। এখন একই ধরণের অপরাধের পেছনে অন্য প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ‘ট্যাগ’ বা সম্পৃক্ততা খোঁজার এক প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, অপরাধীকে স্রেফ একজন ‘অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত না করে, মিডিয়া সবসময় তাদের গায়ে রাজনৈতিক চশমা পরিয়ে উপস্থাপন করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
অপরাধ ঢাকা পড়ে ‘ভিউ’ আর ফুটবল উন্মাদনায়
রাজনৈতিক নাটকের বাইরেও মিডিয়ার আরেকটি রূপ প্রকাশ পায় বড় কোনো বৈশ্বিক ইভেন্টকে কেন্দ্র করে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা জনগুরুত্বপূর্ণ অপরাধের খবর যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো আয়োজন এলে দৃশ্যপট বদলে যায়।
”মিডিয়া তখন দেশের সব বড় অপরাধ, খুন ও চাঁদাবাজির খবরকে একপাশে সরিয়ে রেখে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মারামারি, চুলোচুলি আর উন্মাদনার খবর গোনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।”
জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, লাখো ভিউ আর চটকদার কাটতি (Clicks) পাওয়ার এই সস্তা প্রতিযোগিতায় পড়ে কি তবে গণমাধ্যম তার আসল দায়িত্ব ভুলে যাচ্ছে?










