বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সুফল: আবারও খুলল শ্রমবাজার, বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর আশা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সুফল: আবারও খুলল শ্রমবাজার, বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর আশা

দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। সরকারের আশা, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু করা সম্ভব হবে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সুখবর জানানো হয়।

​সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে দেশটির সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের পরই আইনি জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে শ্রমবাজারটি পুনরায় চালুর ঘোষণা এলো।

​সিন্ডিকেট ভাঙতে এবার এজেন্সির নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে

​বিগত বছরগুলোতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা চক্র বা সিন্ডিকেট নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ছিল। তবে এবার সেই সুযোগ থাকছে না। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, মালয়েশিয়া নয়, বরং বাংলাদেশ সরকার নিজেই জনশক্তি রপ্তানির জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে।

​বিশ্লেষকদের মতে, সিন্ডিকেট এবং দুর্নীতি এড়াতে হলে এখন থেকেই সরকার ও দেশের এজেন্সিগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ জনশক্তি রপ্তানি খাত বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

​বারবার উত্থান-পতনের ইতিহাস

​অনিয়ম, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশের এই অন্যতম বড় শ্রমবাজারটি বারবার বন্ধ ও চালুর চক্রে পড়েছে:

  • ২০০৮: অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রথমবার বাজার বন্ধ হয়।
  • ২০১৬: দীর্ঘ আট বছর পর বাজার পুনরায় চালু হয়।
  • ২০১৮: আবারও দুর্নীতির অভিযোগে মালয়েশিয়া সরকার কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়।
  • ২০২২ (আগস্ট): চার বছর বন্ধ থাকার পর নতুন করে কর্মী যাওয়া শুরু হয়।
  • ২০২৪ (১ জুন): নানা জটিলতায় আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
  • ২০২৬ (জুলাই): প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফল কূটনৈতিক তৎপরতায় চূড়ান্তভাবে কাটল জট।

​আটকে পড়া কর্মীদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের দাবি

​২০২৪ সালে বাজার বন্ধ হওয়ার আগে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সরকারি প্রবাসী সংস্থা বোয়েসেলকে (BOESL)। সরকারি তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পেরেছেন। তবে বাকি থাকা প্রায় ৫ হাজার কর্মীর ভাগ্য এখনো ঝুলে রয়েছে।

​সংশ্লিষ্টরা দাবি জানিয়েছেন, নতুন করে কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি এই আটকে পড়া কর্মীদের বিষয়েও যেন দ্রুত পৃথক ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে চান্দিনার বর্ষীয়ান নেতা অধ্যাপক আলী আশরাফ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে চান্দিনার বর্ষীয়ান নেতা অধ্যাপক আলী আশরাফ

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আলী আশরাফের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০২১ সালের ৩০ জুলাই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

১৯৪৭ সালে চান্দিনা উপজেলার গল্লাই গ্রামে জন্ম নেওয়া আলী আশরাফ পেশাজীবনের শুরুতে কলেজে অধ্যাপনা করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও কুমিল্লা-৭ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে তিনি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

দলীয়ভাবে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চান্দিনার শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অধ্যাপক আলী আশরাফ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে, এক ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।

দেখা মাত্রই শেয়ার না করে একটু ভাবুন!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দেখা মাত্রই শেয়ার না করে একটু ভাবুন!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্ক্যান্ডাল ও অশালীন ভিডিও ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট, ব্যবসায়ী ও সংগঠক আবুজর গিফারী।

নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্ক্যান্ডাল কিংবা অশালীন ভিডিও যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনেককে শেয়ার করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ—সব বয়সী মানুষের সামনে চলে আসছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আবুজর গিফারী বলেন, “একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের মনে রাখা দরকার, অন্যের দোষ কিংবা গোপন বিষয় ছড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়।”

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নূরের একটি আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিশ্চয় যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” —সুরা আন-নূর, আয়াত ১৯।

তিনি আরও বলেন, ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় না নেমে প্রত্যেকের উচিত নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়া। কারও ব্যক্তিগত ভিডিও কিংবা স্ক্যান্ডাল শেয়ার না করে তা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।

শেয়ার করার আগে সবাইকে একবার ভাবার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই পোস্ট কিংবা ভিডিওটি শেয়ার করার মাধ্যমে আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন, নাকি সমাজে অশ্লীলতা ও ক্ষতি আরও ছড়িয়ে পড়বে?”

পোস্টের শেষাংশে আবুজর গিফারী বলেন, “সব সময় অন্যের খারাপ চরিত্রকে বড় করে প্রচার না করে, নিজের চরিত্র ও আচরণের দিকে একটু খেয়াল করুন।”

বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়ায় সচেতন আলেম সমাজের ১২ দফা প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়ায় সচেতন আলেম সমাজের ১২ দফা প্রস্তাব

কওমী মাদরাসায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এবং আল-হাইআতুল উলয়ার কাছে ১২ দফা সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছে ‘সচেতন আলেম সমাজ’।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আল-হাইআতুল উলয়ার প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাবনাগুলো হস্তান্তর করা হয়। এতে কওমী মাদরাসাকে ঘিরে অপপ্রচার, গুজব, সম্পাদিত ভিডিওভিত্তিক ডিজিটাল মব এবং একপেশে মিডিয়া ট্রায়াল প্রতিরোধে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও ডাটাবেজ তৈরি, শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষাগত ও চারিত্রিক মানদণ্ড নির্ধারণ, অপরাধে দোষী শিক্ষকদের ব্ল্যাকলিস্ট করা, নিয়মিত মাদরাসা পরিদর্শন এবং নিবন্ধন নবায়ন ব্যবস্থা চালু।

এ ছাড়া শিশু সুরক্ষা নীতিমালা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল, ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন, রিসার্চ সেন্টার, সিসিটিভি স্থাপন, প্রেস উইং ও সাইবার মনিটরিং টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ভিত্তিহীন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদরাসায় কোনো অপরাধ ঘটলে তা গোপন না করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রস্তাব পেশকারী প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কওমী মাদরাসাগুলোর জবাবদিহিতা বাড়বে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং পরিকল্পিত অপপ্রচার প্রতিরোধ করা সহজ হবে।