বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

অর্থ পাচারে ‘ফোকলা’ ব্যাংকিং খাত, দুই বছরের ‘কুশন’ চান অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
অর্থ পাচারে ‘ফোকলা’ ব্যাংকিং খাত, দুই বছরের ‘কুশন’ চান অর্থমন্ত্রী

সংগ্রহীত ছবি

বছরের পর বছর ধরে অর্থ পাচারের ফলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ‘ফোকলা’ হয়ে পড়েছে এবং বেসরকারি খাত তীব্র তারল্য সংকটে ধুঁকছে—এমন মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশের একটি আর্থিক ‘কুশন’ প্রয়োজন, যার মাধ্যমে ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব ব্যাংক-এর বসন্তকালীন সভা উপলক্ষে আটলান্টিক কাউন্সিল-এর এক বিশেষ আয়োজনে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল করা এবং বেসরকারি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা।” তিনি দাবি করেন, আগের সরকারের আমলে ব্যাপক আর্থিক ‘লুটপাট’ ও অর্থ পাচারের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার যে অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, তা কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে। পুঁজিবাজার অত্যন্ত নাজুক এবং দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাজারে মূলধন ও চলতি মূলধনের ‘তীব্র সংকট’ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে বেসরকারি খাতকে এখন প্রায় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করতে হচ্ছে। “বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সব সময় বেসরকারি খাতনির্ভর। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এই খাতকে আগে উদ্ধার করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ,” বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দেশের অনেক ব্যাংকই এখন প্রায় দেউলিয়া অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোকে দ্রুত নতুন মূলধন জোগান দেওয়ার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

বেসরকারি খাতে মূলধন ঘাটতির জন্য অতীত সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে তিনি বলেন, “অতীতে অর্থনীতি গুটিকয়েক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল, যা সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাজারভিত্তিক অর্থনীতিতে টিকে থাকা কঠিন করে তোলে।”

তিনি আরও বলেন, ওই পরিস্থিতির কারণে দেশের মুদ্রার মান প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপে প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা আরও কমেছে। সব মিলিয়ে বেসরকারি খাতের প্রায় ৫০ শতাংশ মূলধন ও চলতি মূলধন কার্যত বিলীন হয়ে গেছে।

এর ফলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকে থাকলেও তাদের উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই মন্দার কারণে কোম্পানিগুলো লোকসানে চলছে এবং মূলধন ভেঙে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। একদিকে মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও মূল্যস্ফীতি মূলধন কমিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে ব্যবসাগুলো আরও ক্ষতির মুখে পড়ছে। “অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি যারা, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি দুর্দশায়,” যোগ করেন তিনি।

এই সংকট মোকাবিলার বিষয়টি আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকেও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত বেসরকারি খাত ও ব্যাংকিং খাতে মূলধন জোগান দেওয়া। এর আগে অন্য কোনো সংস্কার কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।”

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে আইএমএফের কাছ থেকে বাংলাদেশ ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন পায়, যার মধ্যে পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি ডলার ছাড় হওয়ার কথা থাকলেও শর্ত পূরণে অগ্রগতি না হওয়ায় তা বিলম্বিত হয়েছে।

অন্যদিকে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, আসন্ন বাজেট এবং বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় বাজেট সহায়তা হিসেবে অন্তত ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এ বিষয়েও চলমান আইএমএফ-বিশ্ব ব্যাংক বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে।

আইএমএফের শর্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে। এটি ১১ শতাংশ থেকে নেমে এখন ৭ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত না হলে কর-জিডিপি বাড়ানো সম্ভব নয় বলেও তিনি মত দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংককে জানিয়েছি—প্রথমে ব্যবসা-বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়াতে হবে, তারপর কর-জিডিপি বাড়ানোর বিষয়টি আসবে। আর এটি সময়সাপেক্ষ।”

সবশেষে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আগামী দুই বছরের জন্য একটি কার্যকর আর্থিক ‘কুশন’, যার মাধ্যমে ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।”

চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার বাজার এলাকায় ড্রেন পরিষ্কারের পর ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখায় পথচারী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ড্রেন পরিষ্কারের বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তন করে তাৎক্ষণিকভাবে ময়লা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন চান্দিনা পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তার।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ড্রেন পরিষ্কারের সময় ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখার পরিবর্তে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা জরুরি। বিশেষ করে তরল প্রকৃতির ময়লা প্লাস্টিকের কাটা হাফড্রামে সংগ্রহ করে ট্রলি বা ট্রাক্টরের মাধ্যমে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ফজলুল সাত্তার মনে করেন, ড্রেন পরিষ্কারের নামে পরিবেশ দূষণ ও পথচারীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে কয়েক দিন পর LAISE প্রশিক্ষণ শেষ হলে সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভার প্রতিটি খাতে আধুনিক পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন ফজলুল সাত্তার। নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, পৌরবাসীর সেবা করাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল নয়।

এ ছাড়া চাঁদাবাজি, সালিস-দরবারে ঘুষ বাণিজ্য এবং দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। এসব অনিয়ম বন্ধ করে পৌরবাসীর জন্য একটি সেবামুখী পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই মেয়র পদপ্রার্থী।

চান্দিনা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে তাঁর এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে ড্রেনের ময়লা ব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

চান্দিনায় কেরনখাল ইউনিয়নের ৮ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি আতিকুল আলম শাওন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
চান্দিনায় কেরনখাল ইউনিয়নের ৮ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি আতিকুল আলম শাওন

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন কেরনখাল ইউনিয়নের ৮টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) নিজের ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান এমপি আতিকুল আলম শাওন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পূজার উপহার হিসেবে পূজামণ্ডপগুলোতে শাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

শুভেচ্ছা বার্তায় আতিকুল আলম শাওন সবার জীবনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতি বয়ে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট থাকার কামনা করেন।

রিয়াদের বিমানবন্দর ও সৌদি উড়োজাহাজে হামলা, নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ
রিয়াদের বিমানবন্দর ও সৌদি উড়োজাহাজে হামলা, নিহত ৩

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সৌদি এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই সৌদি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে সৌদি এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেনও রয়েছেন। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশের আরও কয়েকজন নাগরিক আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে হামলার জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কিছু জানানো হয়নি।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এর আগে রিয়াদ বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল।

নিহত ক্যাপ্টেনের নাম হামুদ আলী আলকালথামি বলে জানিয়েছে সৌদি এয়ারলাইনসের মূল প্রতিষ্ঠান সৌদিয়া গ্রুপ। সংস্থাটি জানায়, হামলার সময় তাদের একটি উড়োজাহাজ বিমানবন্দরে অবস্থান করছিল। উড়োজাহাজটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না। তবে হামলায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের প্রতিবেশী দেশগুলোর মিত্রবাহিনী গত সপ্তাহান্তে হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। নতুন অভিযান শুরুর পর সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থার উড়োজাহাজে হামলার এটিই প্রথম নিশ্চিত ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের কারও আঘাত সামান্য, আবার কারও অবস্থা গুরুতর।