মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম’- নজরুলের সম্প্রীতির বার্তায় কটিয়াদীতে বিশেষ আয়োজন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম’- নজরুলের সম্প্রীতির বার্তায় কটিয়াদীতে বিশেষ আয়োজন

‘বল বীর—চির উন্নত মম শির’- এই অমর উচ্চারণকে ধারণ করে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে কটিয়াদী নজরুল একাডেমির উদ্যোগে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, কবিতা আবৃত্তি, নজরুলসংগীত, নৃত্য ও নাটিকাসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সাহিত্যপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সুধীজনদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো অনুষ্ঠানস্থল।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্যকর্ম, সাংবাদিকতা, সংগীতচর্চা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং স্বাধীনতা ও মানবমুক্তির সংগ্রামে তাঁর অবদানের ওপর বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন আজও অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মানুষকে সাহস ও প্রেরণা জোগায়।

কটিয়াদী নজরুল একাডেমির সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি শাহজাহানের সভাপতিত্বে ও একাডেমির সহ-সভাপতি সাজেদুর রহমান সেলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কটিয়াদী নজরুল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ খোকন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. জহর লাল সাহা, সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, মো. শফিকুর রহমান বাদলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বিদ্রোহের কবি নন; তিনি মানবতার কবি, সাম্যের কবি এবং প্রেমের কবি। তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, ন্যায়বিচারের আহ্বান এবং মানবিক মূল্যবোধের শক্তিশালী প্রকাশ ঘটেছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলার মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রশ্নে নজরুল কখনো আপস করেননি। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম আজও আমাদের পথ দেখায়। ‘বিদ্রোহী’, ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ কিংবা ‘বল বীর—চির উন্নত মম শির’ শুধু সাহিত্যকর্ম নয়, বরং বাঙালির মুক্তি, জাগরণ ও আত্মমর্যাদার চিরন্তন প্রেরণা।”

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ছিল নজরুলের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। ‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান’সহ তাঁর অসংখ্য রচনা আজও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। বর্তমান সময়ে জাতীয় কবির আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, বাংলা সাহিত্য, সংগীত, নাটক, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান অনন্য ও অবিস্মরণীয়। তিনি ছিলেন শোষণ, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁর সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবতা, সাম্য ও ন্যায়ের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে।

আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিল্পীরা নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য ও নাটিকা পরিবেশন করেন। শিল্পীদের পরিবেশনায় জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্মের নানা দিক প্রাণবন্তভাবে ফুটে ওঠে। বিশেষ করে নজরুলসংগীত ও আবৃত্তি পর্ব দর্শকদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করে। উপস্থিত শ্রোতারা করতালির মাধ্যমে শিল্পীদের উৎসাহিত করেন।

অনুষ্ঠানে কটিয়াদী নজরুল একাডেমির উপদেষ্টা ও সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক দর্শক-শ্রোতা উপস্থিত ছিলেন।

সার্বিকভাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি কটিয়াদীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি প্রাণবন্ত, তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবিক আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার আহ্বান জানান।

আজ চান্দিনায় ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন, আসছেন হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেমরা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
আজ চান্দিনায় ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন, আসছেন হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেমরা

কুমিল্লার চান্দিনায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চান্দিনা থানা কওমী মাদরাসা সংগঠনের উদ্যোগে ২৬তম বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন। সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও ইসলামী বক্তাদের উপস্থিতি ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আয়োজকদের প্রকাশিত পোস্টার অনুযায়ী, ২ নভেম্বর, সোমবার দুপুর ২টায় চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনে বয়ান পেশ করার কথা রয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মাওলানা রেজাউল করীম আবরার, আল্লামা নুরুল ইসলাম অলিপুরী এবং মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীর।

এছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন আল্লামা নুরুল হক, আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, আল্লামা আশেকে এলাহী, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা নজিব আহমদ, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সিরাজী, মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মুফতি দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ ও মুফতি রেজাউল করীম আবরারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট আলেম-ওলামাগণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন হাফেজ মাওলানা আহমাদুল্লাহ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মাওলানা এমদাদ উল্লাহ খান।

উল্লেখ্য, চান্দিনা থানা কওমী মাদরাসা সংগঠন সফলতার সঙ্গে ৩৪ বছর পথচলা অতিক্রম করেছে। সংগঠনটির ২৬তম বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এ সম্মেলনে দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে চান্দিনা ও আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যথাসময়ে সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্মেলনের স্থান: চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, চান্দিনা, কুমিল্লা।সময়: দুপুর ২টা। তারিখ: ২৬ নভেম্বর, সোমবার (পোস্টারের তথ্য অনুযায়ী)।

আলিম পরীক্ষায় তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২ জন!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
আলিম পরীক্ষায় তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২ জন!

কুমিল্লার চান্দিনা থানার তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এবারের আলিম পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাস করেছে মাত্র ২ জন। সে হিসাবে পাসের হার মাত্র ২০ শতাংশ।

এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জনই অকৃতকার্য হওয়ায় এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, পাঠদানে অনিয়মসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ক্লাস বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহনের অভিযোগ তুলছেন অনেকে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলের পেছনে প্রকৃত কারণ কী? শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ঘাটতি, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, নাকি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কোনো ধরনের দুর্বলতা রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। শিক্ষার মানোন্নয়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার বাজার এলাকায় ড্রেন পরিষ্কারের পর ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখায় পথচারী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ড্রেন পরিষ্কারের বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তন করে তাৎক্ষণিকভাবে ময়লা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন চান্দিনা পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তার।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ড্রেন পরিষ্কারের সময় ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখার পরিবর্তে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা জরুরি। বিশেষ করে তরল প্রকৃতির ময়লা প্লাস্টিকের কাটা হাফড্রামে সংগ্রহ করে ট্রলি বা ট্রাক্টরের মাধ্যমে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ফজলুল সাত্তার মনে করেন, ড্রেন পরিষ্কারের নামে পরিবেশ দূষণ ও পথচারীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে কয়েক দিন পর LAISE প্রশিক্ষণ শেষ হলে সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভার প্রতিটি খাতে আধুনিক পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন ফজলুল সাত্তার। নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, পৌরবাসীর সেবা করাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল নয়।

এ ছাড়া চাঁদাবাজি, সালিস-দরবারে ঘুষ বাণিজ্য এবং দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। এসব অনিয়ম বন্ধ করে পৌরবাসীর জন্য একটি সেবামুখী পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই মেয়র পদপ্রার্থী।

চান্দিনা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে তাঁর এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে ড্রেনের ময়লা ব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।