রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

বগুড়ায় প্রথমবার সফল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট, উত্তরাঞ্চলের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বগুড়ায় প্রথমবার সফল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট, উত্তরাঞ্চলের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত

বগুড়ায় প্রথমবারের মতো সফলভাবে বোন ম্যারো (স্টেম সেল) ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন করেছে টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার। এর মাধ্যমে দেশের উত্তরাঞ্চলের উন্নত চিকিৎসাসেবায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টিএমএসএস কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাফল্যের কথা জানানো হয়।

টিএমএসএস সূত্র জানায়, রংপুর জেলার ভান্ডাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী মো. মিজানুর রহমানের শরীরে সফলভাবে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন করা হয়। পুরো চিকিৎসা কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা করেন টিএমএসএস হেমাটোলজি বিভাগের চিফ কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার মিজানুর রহমানের রোগ শনাক্ত হয়। ছয় মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় তিনি ওই বছরের ডিসেম্বরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ২০২৫ সালের আগস্টে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টারে চিকিৎসা শুরু হলে সফলভাবে ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়।

সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসা প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য ঝুঁকি, চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরাঞ্চলে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ঢাকার বাইরে উন্নত ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা প্রদানে দেশের চিকিৎসকদের সক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসনে-আরা বেগম, ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. মো. মতিউর রহমান, অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেনসহ হেমাটোলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপিকা ড. হোসনে-আরা বেগম বলেন,
“টিএমএসএসের উদ্যোগে সম্পন্ন এই সফল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় এক ঐতিহাসিক অর্জন। এটি প্রমাণ করে, বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা এখন উত্তরাঞ্চলেও সম্ভব।”

চিকিৎসা দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন,
“যথাযথ অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল থাকলে আঞ্চলিক পর্যায়েও স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টের মতো জটিল চিকিৎসা নিরাপদ ও সফলভাবে করা সম্ভব—এই সাফল্য তারই প্রমাণ।”

টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন,
“এই অর্জন টিএমএসএসের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতের জন্যও একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। এর ফলে উন্নত চিকিৎসার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।”

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রোগী মো. মিজানুর রহমান বলেন,
“দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর আমি প্রায় আশাহীন হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকরা আমার জন্য হাল ছাড়েননি। আল্লাহর কৃপা, চিকিৎসকদের যত্ন এবং টিএমএসএসে সফল ট্রান্সপ্লান্টের কারণে আজ আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সফল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট টিএমএসএস হেমাটোলজি অ্যান্ড বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টারের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ক্যানসার ও জটিল রক্তরোগের উন্নত চিকিৎসায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান আরও সুদৃঢ় হলো।

আজ চান্দিনায় ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন, আসছেন হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেমরা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
আজ চান্দিনায় ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন, আসছেন হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেমরা

কুমিল্লার চান্দিনায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চান্দিনা থানা কওমী মাদরাসা সংগঠনের উদ্যোগে ২৬তম বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন। সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও ইসলামী বক্তাদের উপস্থিতি ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আয়োজকদের প্রকাশিত পোস্টার অনুযায়ী, ২ নভেম্বর, সোমবার দুপুর ২টায় চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনে বয়ান পেশ করার কথা রয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মাওলানা রেজাউল করীম আবরার, আল্লামা নুরুল ইসলাম অলিপুরী এবং মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীর।

এছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন আল্লামা নুরুল হক, আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, আল্লামা আশেকে এলাহী, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা নজিব আহমদ, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সিরাজী, মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মুফতি দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ ও মুফতি রেজাউল করীম আবরারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট আলেম-ওলামাগণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন হাফেজ মাওলানা আহমাদুল্লাহ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মাওলানা এমদাদ উল্লাহ খান।

উল্লেখ্য, চান্দিনা থানা কওমী মাদরাসা সংগঠন সফলতার সঙ্গে ৩৪ বছর পথচলা অতিক্রম করেছে। সংগঠনটির ২৬তম বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এ সম্মেলনে দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে চান্দিনা ও আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যথাসময়ে সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্মেলনের স্থান: চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, চান্দিনা, কুমিল্লা।সময়: দুপুর ২টা। তারিখ: ২৬ নভেম্বর, সোমবার (পোস্টারের তথ্য অনুযায়ী)।

আলিম পরীক্ষায় তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২ জন!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
আলিম পরীক্ষায় তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২ জন!

কুমিল্লার চান্দিনা থানার তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এবারের আলিম পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাস করেছে মাত্র ২ জন। সে হিসাবে পাসের হার মাত্র ২০ শতাংশ।

এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জনই অকৃতকার্য হওয়ায় এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, পাঠদানে অনিয়মসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ক্লাস বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহনের অভিযোগ তুলছেন অনেকে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলের পেছনে প্রকৃত কারণ কী? শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ঘাটতি, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, নাকি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কোনো ধরনের দুর্বলতা রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। শিক্ষার মানোন্নয়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার বাজার এলাকায় ড্রেন পরিষ্কারের পর ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখায় পথচারী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ড্রেন পরিষ্কারের বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তন করে তাৎক্ষণিকভাবে ময়লা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন চান্দিনা পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তার।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ড্রেন পরিষ্কারের সময় ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখার পরিবর্তে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা জরুরি। বিশেষ করে তরল প্রকৃতির ময়লা প্লাস্টিকের কাটা হাফড্রামে সংগ্রহ করে ট্রলি বা ট্রাক্টরের মাধ্যমে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ফজলুল সাত্তার মনে করেন, ড্রেন পরিষ্কারের নামে পরিবেশ দূষণ ও পথচারীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে কয়েক দিন পর LAISE প্রশিক্ষণ শেষ হলে সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভার প্রতিটি খাতে আধুনিক পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন ফজলুল সাত্তার। নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, পৌরবাসীর সেবা করাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল নয়।

এ ছাড়া চাঁদাবাজি, সালিস-দরবারে ঘুষ বাণিজ্য এবং দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। এসব অনিয়ম বন্ধ করে পৌরবাসীর জন্য একটি সেবামুখী পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই মেয়র পদপ্রার্থী।

চান্দিনা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে তাঁর এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে ড্রেনের ময়লা ব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।