বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনে অচলাবস্থা, উদ্বেগে রোগী-স্বজনরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনে অচলাবস্থা, উদ্বেগে রোগী-স্বজনরা

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশ প্রত্যাহারসহ ছয় দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। একই দাবিতে মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে শিক্ষা কার্যক্রমও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষাকার্যক্রম—উভয় ক্ষেত্রেই সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নোটিশ চিকিৎসকদের স্বার্থবিরোধী, বৈষম্যমূলক এবং অযৌক্তিক। এ কারণে তাঁরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ৬৪৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। নিয়মিত চিকিৎসকদের পাশাপাশি প্রায় ৮০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক বিভিন্ন ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করেন। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি চলায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ভর্তি রোগীদের নিয়মিত তদারকি, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে সংকট তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের সামনে রোগীদের দীর্ঘ সারি। দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করছেন। টিকিট কাউন্টার খোলা থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক সংকট থাকায় অনেক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডেও দেখা দিয়েছে অতিরিক্ত চাপ। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে দায়িত্বরত নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ফলোআপ এবং ওষুধ ব্যবস্থাপনায় বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তাড়াইল উপজেলা থেকে অসুস্থ মাকে নিয়ে হাসপাতালে আসা মো. রহমত আলী বলেন, “সকাল থেকে মাকে নিয়ে হাসপাতালে দাঁড়িয়ে আছি। টিকিট কেটেছি, কিন্তু এখনও ডাক্তার দেখাতে পারিনি। ভেতরে গিয়ে দেখি চিকিৎসক নেই। গরিব মানুষের কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই।”

মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর স্বজন হোসেনপুর উপজেলার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাইকে দুই দিন আগে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। বড় ডাক্তাররা রাউন্ড দিয়ে চলে যাওয়ার পর কোনো সমস্যা হলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাওয়া যেত। কিন্তু গত দুই দিন ধরে তাঁদের দেখা মিলছে না। রোগী নিয়ে আমরা উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে আছি।”

দুপুরের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. আবু ইউসুফ, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আদনান কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তওসিফ ফারহান সামি, মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাফিউল সাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মোক্তাদির আল বিরুনী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, তাঁদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ বা ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাঁরা আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. আবু ইউসুফ বলেন, “আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমরা কখনোই রোগীদের কষ্ট দিতে চাই না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় বাধ্য হয়েই কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

এদিকে কর্মবিরতি দীর্ঘায়িত হলে চিকিৎসাসেবার সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে চান্দিনার বর্ষীয়ান নেতা অধ্যাপক আলী আশরাফ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে চান্দিনার বর্ষীয়ান নেতা অধ্যাপক আলী আশরাফ

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আলী আশরাফের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০২১ সালের ৩০ জুলাই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

১৯৪৭ সালে চান্দিনা উপজেলার গল্লাই গ্রামে জন্ম নেওয়া আলী আশরাফ পেশাজীবনের শুরুতে কলেজে অধ্যাপনা করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও কুমিল্লা-৭ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে তিনি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

দলীয়ভাবে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চান্দিনার শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অধ্যাপক আলী আশরাফ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে, এক ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।

দেখা মাত্রই শেয়ার না করে একটু ভাবুন!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দেখা মাত্রই শেয়ার না করে একটু ভাবুন!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্ক্যান্ডাল ও অশালীন ভিডিও ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট, ব্যবসায়ী ও সংগঠক আবুজর গিফারী।

নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্ক্যান্ডাল কিংবা অশালীন ভিডিও যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনেককে শেয়ার করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ—সব বয়সী মানুষের সামনে চলে আসছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আবুজর গিফারী বলেন, “একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের মনে রাখা দরকার, অন্যের দোষ কিংবা গোপন বিষয় ছড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়।”

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নূরের একটি আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিশ্চয় যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” —সুরা আন-নূর, আয়াত ১৯।

তিনি আরও বলেন, ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় না নেমে প্রত্যেকের উচিত নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়া। কারও ব্যক্তিগত ভিডিও কিংবা স্ক্যান্ডাল শেয়ার না করে তা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।

শেয়ার করার আগে সবাইকে একবার ভাবার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই পোস্ট কিংবা ভিডিওটি শেয়ার করার মাধ্যমে আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন, নাকি সমাজে অশ্লীলতা ও ক্ষতি আরও ছড়িয়ে পড়বে?”

পোস্টের শেষাংশে আবুজর গিফারী বলেন, “সব সময় অন্যের খারাপ চরিত্রকে বড় করে প্রচার না করে, নিজের চরিত্র ও আচরণের দিকে একটু খেয়াল করুন।”

বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়ায় সচেতন আলেম সমাজের ১২ দফা প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়ায় সচেতন আলেম সমাজের ১২ দফা প্রস্তাব

কওমী মাদরাসায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এবং আল-হাইআতুল উলয়ার কাছে ১২ দফা সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছে ‘সচেতন আলেম সমাজ’।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আল-হাইআতুল উলয়ার প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাবনাগুলো হস্তান্তর করা হয়। এতে কওমী মাদরাসাকে ঘিরে অপপ্রচার, গুজব, সম্পাদিত ভিডিওভিত্তিক ডিজিটাল মব এবং একপেশে মিডিয়া ট্রায়াল প্রতিরোধে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও ডাটাবেজ তৈরি, শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষাগত ও চারিত্রিক মানদণ্ড নির্ধারণ, অপরাধে দোষী শিক্ষকদের ব্ল্যাকলিস্ট করা, নিয়মিত মাদরাসা পরিদর্শন এবং নিবন্ধন নবায়ন ব্যবস্থা চালু।

এ ছাড়া শিশু সুরক্ষা নীতিমালা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল, ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন, রিসার্চ সেন্টার, সিসিটিভি স্থাপন, প্রেস উইং ও সাইবার মনিটরিং টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ভিত্তিহীন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদরাসায় কোনো অপরাধ ঘটলে তা গোপন না করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রস্তাব পেশকারী প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কওমী মাদরাসাগুলোর জবাবদিহিতা বাড়বে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং পরিকল্পিত অপপ্রচার প্রতিরোধ করা সহজ হবে।