শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঐতিহ্যবাহী নরসিংহ জিউর আখড়ার জমি নিয়ে বিতর্ক, জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঐতিহ্যবাহী নরসিংহ জিউর আখড়ার জমি নিয়ে বিতর্ক, জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী নরসিংহ জিউর আখড়ার বিপুল পরিমাণ দেবোত্তর সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী, ভক্তবৃন্দ ও আখড়া পরিচালনা কমিটির দাবি, প্রভাবশালী একটি মহল আখড়ার অধিকাংশ সম্পত্তি দখল করে রেখেছে। ফলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় বেদখলকৃত সম্পত্তি দ্রুত উদ্ধার করে আখড়ার স্বার্থ সংরক্ষণে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আখড়া পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা যায়, সিএস ও এসএ রেকর্ড অনুযায়ী শ্রী শ্রী নরসিংহ জিউর আখড়ার নামে মোট ১ একর ৩৩ শতাংশ দেবোত্তর সম্পত্তি রয়েছে। তবে বাস্তবে এই সম্পত্তির প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

কমিটির দেওয়া তথ্যমতে, রেকর্ডভুক্ত কয়েকটি দাগের জমি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ভোগদখল করে আসছেন। এর মধ্যে ৭৪ নম্বর দাগের ৫.৮১ শতাংশ জমি, ৭৩ নম্বর দাগের ৪ শতাংশ জমি এবং ৭৫ নম্বর দাগের ৩.৩২ শতাংশ জমি বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীরা দখল করে রেখেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া আখড়ার আরও কয়েকটি অংশ ভাড়াটিয়া ও দখলদারদের মাধ্যমে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আখড়ার মূল মন্দির ও আশপাশের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে বিভিন্ন দোকানপাট, অস্থায়ী ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব স্থাপনার একটি বড় অংশ দেবোত্তর সম্পত্তির ওপর গড়ে উঠেছে।

ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের চারপাশের পরিবেশ আগের মতো নেই বলে জানান স্থানীয় ভক্তরা। তাদের মতে, একসময় আখড়ার বিস্তৃত এলাকা ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বণ ও ভক্তদের সমাগমের জন্য ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দেবোত্তর সম্পত্তি বেদখলে থাকায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভক্ত বলেন, “এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের দান করা দেবোত্তর সম্পত্তি। বছরের পর বছর ধরে আমরা দেখছি, আখড়ার জমি ধীরে ধীরে অন্যের দখলে চলে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আখড়ার অস্তিত্বই সংকটের মুখে পড়তে পারে।”

তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও ভূমি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছে আখড়া পরিচালনা কমিটি।

কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, শুধু মৌখিক অভিযোগ নয়, রেকর্ডপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণসহ তারা প্রশাসনের কাছে আবেদন জমা দিয়েছেন। তারা আশা করছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং শ্রী শ্রী নরসিংহ জিউর আখড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আখড়ার দাবিকৃত সম্পত্তির সিএস, এসএ রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বেদখলকৃত ভূমি উদ্ধারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন বদ্ধপরিকর।”

উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ সৃষ্টি হলেও তারা দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চান। তাদের মতে, শুধু তদন্ত নয়, বাস্তবিক অর্থে বেদখলকৃত জমি উদ্ধার এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি সুরক্ষিত রাখা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার করে আখড়ার স্বাভাবিক ধর্মীয় কার্যক্রম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

যোগদানের প্রথম মাসেই জেলার সেরা এএসআই মোস্তফা কামাল

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
যোগদানের প্রথম মাসেই জেলার সেরা এএসআই মোস্তফা কামাল

চান্দিনা থানায় যোগদানের প্রথম মাসেই কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোস্তফা কামাল।

সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ওয়ারেন্ট বাস্তবায়নে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। কুমিল্লার পুলিশ সুপার তাঁর হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ওয়ারেন্ট তামিল করে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রশংসা অর্জন করেন। এএসআই মোস্তফা কামাল বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁকে আরও নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণের সেবায় কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।

বাংলাদেশিদের জন্য দ্রুত ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার তাগিদ ভারতের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশিদের জন্য দ্রুত ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার তাগিদ ভারতের

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করতে ভারত সরকারকে তাগিদ দিয়েছে দেশটির একটি সংসদীয় কমিটি। ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ বিষয়ক প্রতিবেদনে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটি বলেছে, দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও জনগণের যোগাযোগ বজায় রাখতে স্বাভাবিক ভিসাসেবা জরুরি। একই সঙ্গে ভিসানীতি পর্যালোচনা, আবেদনকারীদের অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বৈধ ভ্রমণকারীদের ভোগান্তি কমাতে দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার সহযোগিতা ব্যবস্থা গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের পাঁচটি ভিসাকেন্দ্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ ভিসা দেওয়া হচ্ছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ চিকিৎসা ভিসা।

সারজিস-নাসীরুদ্দীনসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
সারজিস-নাসীরুদ্দীনসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন। এতে নাম উল্লেখ করা ১০ জন ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ জুলাই কোর্ট মসজিদের সামনে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের সময় কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আহত করা হয় এবং একাধিক মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তবে একই ঘটনায় এনসিপিও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুল হক জানান, মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।