রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

১০৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নবাব সলিমুল্লাহর অবিস্মরণীয় অবদান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
১০৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নবাব সলিমুল্লাহর অবিস্মরণীয় অবদান

জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, মুক্তবুদ্ধির বিকাশ এবং জাতীয় জাগরণের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আজ বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, দেশের ঐতিহ্যবাহী এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টি কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং রাষ্ট্রগঠনের এক উজ্জ্বল প্রতীক।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ গঠিত হলেও ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। এতে পূর্ববঙ্গের মানুষের মধ্যে শিক্ষা, প্রশাসন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে আবারও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই সময় পূর্ববঙ্গে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে সামনে আসে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে সবচেয়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় ঢাকার নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহকে। পূর্ববঙ্গে একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তিনি এ দাবির পক্ষে জনমত গঠন এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছে দাবি উত্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
১৯১১ সালের ১৯ আগস্ট কার্জন হলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে নবাব সলিমুল্লাহ ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। বঙ্গভঙ্গ রদের পর তিনি মুসলমানদের শিক্ষা ও অন্যান্য স্বার্থ রক্ষায় তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে আট দফা দাবি উপস্থাপন করেন।
নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক প্রতিনিধিদল
১৯১২ সালের জানুয়ারিতে ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে এলে ৩১ জানুয়ারি নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে পূর্ববঙ্গের মুসলিম নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধিদলটি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়। ওই দিনই ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনায় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রেও নবাব সলিমুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য পরবর্তী সময়ে নাথান কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ঢাকায় একটি আবাসিক ও শিক্ষাদানভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম বিলম্বিত হলেও পূর্ববঙ্গের নেতারা দাবি থেকে সরে আসেননি।
এ আন্দোলনকে আইনগত ও প্রশাসনিক পর্যায়ে এগিয়ে নিতে নওয়াব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিলটি এগিয়ে নেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এর বিধিবিধান প্রণয়ন ও প্রাথমিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করেন।
দীর্ঘ আলোচনা ও প্রস্তুতির পর ১৯২০ সালের ১৮ মার্চ ভারতীয় আইনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস হয়। একই বছরের ২৩ মার্চ গভর্নর জেনারেলের অনুমোদনের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হয়। ‘দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট, ১৯২০’-এর অধীনে ১৯২১ সালের ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।
যেভাবে শুরু হয়েছিল যাত্রা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ—পি জে হার্টগ। তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভিত্তি গড়ে ওঠে।
প্রতিষ্ঠাকালে বিশ্ববিদ্যালয়টি কলা, বিজ্ঞান ও আইন—এই তিনটি অনুষদ; ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী এবং তিনটি আবাসিক হল নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিক তিনটি আবাসিক হল ছিল সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা হল—বর্তমান শহীদুল্লাহ হল এবং জগন্নাথ হল।
জাতীয় আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের স্বায়ত্তশাসন ও ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আত্মত্যাগ করেছেন।
১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন প্রাঙ্গণে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ওই রাতে এবং মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী শহীদ হন।
ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, গবেষণা, সাংবাদিকতা, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
চিরস্মরণীয় নবাব সলিমুল্লাহ
ইতিহাসের নিরপেক্ষ মূল্যায়নে বলা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আন্দোলনে স্যার নবাব খাজা সলিমুল্লাহ ছিলেন অন্যতম প্রধান অগ্রদূত। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা, নেতৃত্ব, রাজনৈতিক উদ্যোগ এবং শিক্ষাবান্ধব ভূমিকা পূর্ববঙ্গের মানুষের জন্য উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ছিল বহু ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতা, কমিটি ও প্রশাসনিক উদ্যোগের সম্মিলিত ফল। সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টার সূচনা ও দাবিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে নবাব সলিমুল্লাহর অবদান ছিল অনন্য।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় অতিক্রম করেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান, মুক্তচিন্তা, গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ ও জাতীয় চেতনার বাতিঘর হিসেবে দেশের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে নবাব সলিমুল্লাহর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আজ চান্দিনায় ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন, আসছেন হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেমরা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
আজ চান্দিনায় ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন, আসছেন হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানসহ দেশবরেণ্য আলেমরা

কুমিল্লার চান্দিনায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চান্দিনা থানা কওমী মাদরাসা সংগঠনের উদ্যোগে ২৬তম বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে ঐতিহাসিক ইসলামী মহাসম্মেলন। সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও ইসলামী বক্তাদের উপস্থিতি ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আয়োজকদের প্রকাশিত পোস্টার অনুযায়ী, ২ নভেম্বর, সোমবার দুপুর ২টায় চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনে বয়ান পেশ করার কথা রয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মাওলানা রেজাউল করীম আবরার, আল্লামা নুরুল ইসলাম অলিপুরী এবং মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীর।

এছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন আল্লামা নুরুল হক, আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, আল্লামা আশেকে এলাহী, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা নজিব আহমদ, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সিরাজী, মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজী, মুফতি দ্বীন মোহাম্মদ আশরাফ ও মুফতি রেজাউল করীম আবরারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট আলেম-ওলামাগণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন হাফেজ মাওলানা আহমাদুল্লাহ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মাওলানা এমদাদ উল্লাহ খান।

উল্লেখ্য, চান্দিনা থানা কওমী মাদরাসা সংগঠন সফলতার সঙ্গে ৩৪ বছর পথচলা অতিক্রম করেছে। সংগঠনটির ২৬তম বৃত্তি পরীক্ষার বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এ সম্মেলনে দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে চান্দিনা ও আশপাশের এলাকার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যথাসময়ে সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্মেলনের স্থান: চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, চান্দিনা, কুমিল্লা।সময়: দুপুর ২টা। তারিখ: ২৬ নভেম্বর, সোমবার (পোস্টারের তথ্য অনুযায়ী)।

আলিম পরীক্ষায় তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২ জন!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
আলিম পরীক্ষায় তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস মাত্র ২ জন!

কুমিল্লার চান্দিনা থানার তীরচর আতিকীয়া ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এবারের আলিম পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাস করেছে মাত্র ২ জন। সে হিসাবে পাসের হার মাত্র ২০ শতাংশ।

এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮ জনই অকৃতকার্য হওয়ায় এর পেছনের কারণ অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।

এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, পাঠদানে অনিয়মসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ক্লাস বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহনের অভিযোগ তুলছেন অনেকে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফলের পেছনে প্রকৃত কারণ কী? শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ঘাটতি, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, নাকি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় কোনো ধরনের দুর্বলতা রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। শিক্ষার মানোন্নয়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ
চান্দিনা বাজারে ড্রেনের ময়লা রাস্তায় ফেলা নিয়ে ক্ষোভ, পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবি মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তারের

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার বাজার এলাকায় ড্রেন পরিষ্কারের পর ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখায় পথচারী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ড্রেন পরিষ্কারের বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তন করে তাৎক্ষণিকভাবে ময়লা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন চান্দিনা পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ফজলুল সাত্তার।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ড্রেন পরিষ্কারের সময় ময়লা রাস্তায় ফেলে রাখার পরিবর্তে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা জরুরি। বিশেষ করে তরল প্রকৃতির ময়লা প্লাস্টিকের কাটা হাফড্রামে সংগ্রহ করে ট্রলি বা ট্রাক্টরের মাধ্যমে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ফজলুল সাত্তার মনে করেন, ড্রেন পরিষ্কারের নামে পরিবেশ দূষণ ও পথচারীদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে কয়েক দিন পর LAISE প্রশিক্ষণ শেষ হলে সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভার প্রতিটি খাতে আধুনিক পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন ফজলুল সাত্তার। নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, পৌরবাসীর সেবা করাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল নয়।

এ ছাড়া চাঁদাবাজি, সালিস-দরবারে ঘুষ বাণিজ্য এবং দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। এসব অনিয়ম বন্ধ করে পৌরবাসীর জন্য একটি সেবামুখী পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই মেয়র পদপ্রার্থী।

চান্দিনা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়ে তাঁর এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে ড্রেনের ময়লা ব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।