শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বালিখলা ফেরিঘাটে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ শুরু, স্বস্তি ফিরবে হাওরাঞ্চলের যাত্রীদের

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:২৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বালিখলা ফেরিঘাটে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ শুরু, স্বস্তি ফিরবে হাওরাঞ্চলের যাত্রীদের

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বালিখলা ফেরিঘাটে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিতব্য এ যাত্রী ছাউনির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হাওরাঞ্চলের হাজারো মানুষের যাতায়াত আরও স্বস্তিদায়ক হবে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলুল রহমান, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বালিখলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কুতুব উদ্দিন, বাজার কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিখলা ফেরিঘাটটি করিমগঞ্জ, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামসহ বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ ঘাট ব্যবহার করে যাতায়াত করলেও এতদিন সেখানে যাত্রীদের বসার বা আশ্রয় নেওয়ার উপযুক্ত কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ফলে রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।

ইটনা উপজেলার বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রী মো. আব্দুল কাদির বলেন, “বালিখলা ঘাট দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু এখানে বসার কিংবা বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। যাত্রী ছাউনি নির্মিত হলে সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হবে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “হাওরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাটে দীর্ঘদিন ধরেই একটি যাত্রী ছাউনির প্রয়োজন ছিল। অবশেষে সেই দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছাউনির পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও শৌচাগার নির্মাণ করা হলে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও কমবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, “ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রামসহ বিশাল হাওরাঞ্চলের লাখো মানুষ প্রতিদিন বালিখলা ফেরিঘাট ব্যবহার করেন। রোদ, বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে অনেক সময় তাদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। যাত্রীদের এই দুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যেই যাত্রী ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণ এখানে একটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে সরকারি জায়গায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, যাত্রী ছাউনির সঙ্গে আধুনিক টয়লেট ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থাও রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা গ্রহণ করতে পারেন। পাশাপাশি ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এ অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্প্রতি মিঠামইন-করিমগঞ্জ নৌপথে সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “হাওরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।”

জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “নতুন পুলিশ সুপার দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। করিমগঞ্জ থানার নতুন ওসিও দায়িত্ব পালনে আন্তরিক ও তৎপর। তবে একটি এলাকার পরিবেশ ও সমস্যাগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে একজন কর্মকর্তার কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়।”

জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, “জেলা পরিষদ মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৫ থেকে ২০টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। আরও ৩০ থেকে ৪০টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি বলেন, “জেলা পরিষদ মানুষের সেবার জন্য কাজ করে। জনগণের যেকোনো যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজন পূরণে আমরা সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব।”

এদিকে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করে যাত্রী ছাউনিটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চান্দিনায় জামায়াতের মিছিল

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ণ
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চান্দিনায় জামায়াতের মিছিল

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে কুমিল্লার চান্দিনায় সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে চান্দিনা মোকামবাড়ি থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্টেশনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা শাখার নায়েবে আমীর অধ্যাপক আল মগীর সরকার। এ সময় জেলা, উপজেলা ও পৌর জামায়াত, ছাত্রশিবির এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন।

যোগদানের প্রথম মাসেই জেলার সেরা এএসআই মোস্তফা কামাল

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
যোগদানের প্রথম মাসেই জেলার সেরা এএসআই মোস্তফা কামাল

চান্দিনা থানায় যোগদানের প্রথম মাসেই কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোস্তফা কামাল।

সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ওয়ারেন্ট বাস্তবায়নে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। কুমিল্লার পুলিশ সুপার তাঁর হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ওয়ারেন্ট তামিল করে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রশংসা অর্জন করেন। এএসআই মোস্তফা কামাল বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁকে আরও নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণের সেবায় কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।

বাংলাদেশিদের জন্য দ্রুত ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার তাগিদ ভারতের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশিদের জন্য দ্রুত ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার তাগিদ ভারতের

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করতে ভারত সরকারকে তাগিদ দিয়েছে দেশটির একটি সংসদীয় কমিটি। ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ বিষয়ক প্রতিবেদনে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটি বলেছে, দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও জনগণের যোগাযোগ বজায় রাখতে স্বাভাবিক ভিসাসেবা জরুরি। একই সঙ্গে ভিসানীতি পর্যালোচনা, আবেদনকারীদের অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বৈধ ভ্রমণকারীদের ভোগান্তি কমাতে দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার সহযোগিতা ব্যবস্থা গড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের পাঁচটি ভিসাকেন্দ্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ ভিসা দেওয়া হচ্ছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ চিকিৎসা ভিসা।