রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কুলিয়ারচরে চুরির চেষ্টা করতে গিয়ে পাঁচতলা থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুলিয়ারচরে চুরির চেষ্টা করতে গিয়ে পাঁচতলা থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে একটি বহুতল ভবনে চুরির চেষ্টা করতে গিয়ে পাঁচতলা থেকে নিচে পড়ে আকাশ (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুলিয়ারচর বাজার এলাকার ‘জামান টাওয়ার’-এ এই ঘটনা ঘটে।

নিহত আকাশ কুলিয়ারচর পৌরসভার চরারবন গ্রামের বাসিন্দা এবং জুয়েলের ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে জামান টাওয়ারের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন আকাশ। এ সময় ফ্ল্যাটের এক নারী বাসিন্দা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে ভবনের অন্যান্য বাসিন্দা ও আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ভবনটি ঘিরে ফেলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চারদিকে মানুষের উপস্থিতি দেখে এবং ধরা পড়ার আশঙ্কায় আকাশ ভবনের বাইরের অংশ বেয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাঁচতলা থেকে নিচে পড়ে যান। নিচে পার্কিং করা একটি অটোরিকশার ওপর আছড়ে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

খবর পেয়ে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ, ঘটনার পূর্বাপর পরিস্থিতি এবং চুরির অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাতেই উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি ঘটনাটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চান্দিনা এক্সপ্রেস এর পথ চলা শুরু

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ
চান্দিনা এক্সপ্রেস এর পথ চলা শুরু

অনেকে লাকি মনে করেন। আসলে আপনারা সবাই লাকি। শুধু যার যার জায়গায় সৎভাবে ধৈর্য ধরে কাজ করুন। সাকসেস অটোমেটিক্যালি আপনাদের আসবে। পাঁচ বছর পরিশ্রম করার পর নেইমার জুনিয়রের পরিবারের সাথে আজকের এই মূল্য। এটা ডে নাইট কোনো কিছু না।

একটি কালভার্টের অপেক্ষায় তিন শতাধিক মানুষ, চরম দুর্ভোগে গাংগাটিয়াবাসী

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
একটি কালভার্টের অপেক্ষায় তিন শতাধিক মানুষ, চরম দুর্ভোগে গাংগাটিয়াবাসী

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গাংগাটিয়া বাজারসংলগ্ন রজনী রবিদাসের বাড়ির সামনের খালের ওপর একটি কালভার্ট না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ২০টি হিন্দু পরিবারের তিন শতাধিক মানুষ। বাড়িতে যাতায়াতের কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। ফলে শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকটজনক হয়ে উঠছে।

এ অবস্থায় দ্রুত একটি কালভার্ট নির্মাণের দাবিতে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষুদিরাম রবিদাস।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাংগাটিয়া বাজারের উত্তর পাশে অবস্থিত রজনী রবিদাসের বাড়িতে প্রায় ২০টি পরিবারের বসবাস। কিন্তু খালের কারণে বাড়িতে প্রবেশের জন্য কোনো সড়ক বা সেতু না থাকায় বাসিন্দাদের বিদ্যুতের খুঁটি ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, সামান্য বৃষ্টিতেই খালের পানি বেড়ে গেলে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আসা ব্যাহত হয় এবং অসুস্থ ব্যক্তি বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়াও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের দাবি, সবচেয়ে মানবিক সংকট দেখা দেয় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে। কারণ, খালের ওপর নিরাপদ সংযোগ না থাকায় মরদেহ বাড়ি থেকে বের করতেও স্বজনদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

আবেদনকারী ক্ষুদিরাম রবিদাস বলেন, “গাংগাটিয়া বাজারসংলগ্ন রজনী রবিদাসের বাড়ির সামনে একটি ছোট কালভার্ট নির্মাণ করা হলে বহু বছরের এই দুর্ভোগের অবসান হবে। শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মাননীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাহলে এলাকাবাসী চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।”

এলাকার বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “আবেদনটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি ছোট কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে কয়েক শ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করা সম্ভব। তারা দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

কৃষি পুনরুদ্ধারে সরকারি সহায়তা: কটিয়াদীতে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল প্রদান

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
কৃষি পুনরুদ্ধারে সরকারি সহায়তা: কটিয়াদীতে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল প্রদান

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার হাওড়াঞ্চলে সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্য বিতরণ শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১১টায় কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রথম পর্যায়ে উপজেলার মুমুরদিয়া ও জালালপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের পক্ষ থেকে কটিয়াদী উপজেলার মোট ১ হাজার ৬৫৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য এ মানবিক সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কৃষকদের মাঝেও একই ধরনের সহায়তা বিতরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানার সভাপতিত্বে এবং জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিকের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, “দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের অবদান অপরিসীম। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সরকারের এই সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি আংশিক পুষিয়ে নিয়ে তারা যেন পুনরায় কৃষিকাজে ফিরতে পারেন, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের যেকোনো সমস্যা দ্রুত প্রশাসনের নজরে আনতে হবে, যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা সময়মতো নিশ্চিত করা যায়।

সভাপতির বক্তব্যে লাবনী আক্তার তারানা বলেন, “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। কোনো যোগ্য কৃষক যাতে সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজেদুর রহমান সজল সরকার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম এবং মুমুরদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন সাবেরী।

এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জায়দুল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. ইলিয়াস আলী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তসরিফুল হাসিবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সহায়তা পাওয়া কৃষকরা জানান, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে তাদের ধান, বীজতলা এবং বিভিন্ন সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারের দেওয়া নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা তাদের পরিবার পরিচালনা এবং নতুন করে কৃষিকাজ শুরু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে নগদ অর্থ ও চাল তুলে দেন। পুরো আয়োজনজুড়ে কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। তারা সরকারের এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও কৃষিখাতে এমন সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।