রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

১০৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নবাব সলিমুল্লাহর অবিস্মরণীয় অবদান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
১০৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নবাব সলিমুল্লাহর অবিস্মরণীয় অবদান

জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, মুক্তবুদ্ধির বিকাশ এবং জাতীয় জাগরণের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আজ বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, দেশের ঐতিহ্যবাহী এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টি কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং রাষ্ট্রগঠনের এক উজ্জ্বল প্রতীক।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ গঠিত হলেও ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। এতে পূর্ববঙ্গের মানুষের মধ্যে শিক্ষা, প্রশাসন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে আবারও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই সময় পূর্ববঙ্গে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে সামনে আসে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে সবচেয়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় ঢাকার নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহকে। পূর্ববঙ্গে একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তিনি এ দাবির পক্ষে জনমত গঠন এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছে দাবি উত্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
১৯১১ সালের ১৯ আগস্ট কার্জন হলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে নবাব সলিমুল্লাহ ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। বঙ্গভঙ্গ রদের পর তিনি মুসলমানদের শিক্ষা ও অন্যান্য স্বার্থ রক্ষায় তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে আট দফা দাবি উপস্থাপন করেন।
নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক প্রতিনিধিদল
১৯১২ সালের জানুয়ারিতে ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে এলে ৩১ জানুয়ারি নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে পূর্ববঙ্গের মুসলিম নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধিদলটি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানায়। ওই দিনই ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সরকারি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনায় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রেও নবাব সলিমুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য পরবর্তী সময়ে নাথান কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ঢাকায় একটি আবাসিক ও শিক্ষাদানভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম বিলম্বিত হলেও পূর্ববঙ্গের নেতারা দাবি থেকে সরে আসেননি।
এ আন্দোলনকে আইনগত ও প্রশাসনিক পর্যায়ে এগিয়ে নিতে নওয়াব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিলটি এগিয়ে নেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এর বিধিবিধান প্রণয়ন ও প্রাথমিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করেন।
দীর্ঘ আলোচনা ও প্রস্তুতির পর ১৯২০ সালের ১৮ মার্চ ভারতীয় আইনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস হয়। একই বছরের ২৩ মার্চ গভর্নর জেনারেলের অনুমোদনের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হয়। ‘দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট, ১৯২০’-এর অধীনে ১৯২১ সালের ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।
যেভাবে শুরু হয়েছিল যাত্রা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ—পি জে হার্টগ। তাঁর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভিত্তি গড়ে ওঠে।
প্রতিষ্ঠাকালে বিশ্ববিদ্যালয়টি কলা, বিজ্ঞান ও আইন—এই তিনটি অনুষদ; ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী এবং তিনটি আবাসিক হল নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিক তিনটি আবাসিক হল ছিল সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা হল—বর্তমান শহীদুল্লাহ হল এবং জগন্নাথ হল।
জাতীয় আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের স্বায়ত্তশাসন ও ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আত্মত্যাগ করেছেন।
১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন প্রাঙ্গণে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ওই রাতে এবং মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী শহীদ হন।
ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, গবেষণা, সাংবাদিকতা, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
চিরস্মরণীয় নবাব সলিমুল্লাহ
ইতিহাসের নিরপেক্ষ মূল্যায়নে বলা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার আন্দোলনে স্যার নবাব খাজা সলিমুল্লাহ ছিলেন অন্যতম প্রধান অগ্রদূত। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা, নেতৃত্ব, রাজনৈতিক উদ্যোগ এবং শিক্ষাবান্ধব ভূমিকা পূর্ববঙ্গের মানুষের জন্য উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ছিল বহু ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতা, কমিটি ও প্রশাসনিক উদ্যোগের সম্মিলিত ফল। সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টার সূচনা ও দাবিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে নবাব সলিমুল্লাহর অবদান ছিল অনন্য।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় অতিক্রম করেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান, মুক্তচিন্তা, গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ ও জাতীয় চেতনার বাতিঘর হিসেবে দেশের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে নবাব সলিমুল্লাহর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অটোরিকশার ধাক্কায় অনার্স শিক্ষার্থীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
অটোরিকশার ধাক্কায় অনার্স শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় নাফিজা আক্তার খালেদা (২২) নামে এক অনার্স শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে শহরের কাজীপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাফিজা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং দক্ষিণ পৈরতলা এলাকার জাহাঙ্গীর আলম ফারুকের মেয়ে।

কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে অটোরিকশার ধাক্কায় তিনি পাশের দেয়ালে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, পরিবারের অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চান্দিনায় জামায়াতের মিছিল

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২১ অপরাহ্ণ
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চান্দিনায় জামায়াতের মিছিল

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে কুমিল্লার চান্দিনায় সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে চান্দিনা মোকামবাড়ি থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্টেশনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা শাখার নায়েবে আমীর অধ্যাপক আল মগীর সরকার। এ সময় জেলা, উপজেলা ও পৌর জামায়াত, ছাত্রশিবির এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন।

যোগদানের প্রথম মাসেই জেলার সেরা এএসআই মোস্তফা কামাল

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
যোগদানের প্রথম মাসেই জেলার সেরা এএসআই মোস্তফা কামাল

চান্দিনা থানায় যোগদানের প্রথম মাসেই কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোস্তফা কামাল।

সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ওয়ারেন্ট বাস্তবায়নে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। কুমিল্লার পুলিশ সুপার তাঁর হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ওয়ারেন্ট তামিল করে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রশংসা অর্জন করেন। এএসআই মোস্তফা কামাল বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁকে আরও নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণের সেবায় কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।