বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঐক্যবদ্ধ বিএনপিতে কিশোরগঞ্জে চাঙা ধানের শীষ, নির্বাচনে নতুন সমীকরণ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঐক্যবদ্ধ বিএনপিতে কিশোরগঞ্জে চাঙা ধানের শীষ, নির্বাচনে নতুন সমীকরণ

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের সগড়া এলাকায় ধানের শীষের এক জনসভা বিএনপির নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। জনসভায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর এলাকার জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেলের উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই দলটির ভেতরে এক ধরনের বিভাজন দেখা দেয়। তবে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই জনসভাকে কেন্দ্র করে সেই খণ্ডিত বিএনপি আংশিকভাবে আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ভিপি সোহেল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। পরবর্তীতে ব্যবসায়িক কারণে ঢাকায় অবস্থানকালে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি দীর্ঘদিন কিশোরগঞ্জে ফিরতে পারেননি।

এদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু মোরগ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত অবস্থা তৈরি হয়। দীর্ঘদিন একসঙ্গে আন্দোলনে থাকা অনেক নেতার নীরবতার কারণে বিএনপির দলীয় প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে মাঠের প্রচারণাও ছিল তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয়।

অন্যদিকে অতীতে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা চুন্নু কৌশলী প্রচারণার মাধ্যমে এলাকায় বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। জামায়াতের কোনো প্রার্থী না থাকায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে তেমন শক্তিশালী মনে করা হচ্ছিল না। ফলে নির্বাচনী মাঠ একসময় মোরগ প্রতীকের দিকেই ঝুঁকে পড়েছিল বলে স্থানীয়দের ধারণা।

তবে সদর উপজেলার রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা ভিপি সোহেলের জনসভায় উপস্থিতি নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মোড় এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জনসভায় কিশোরগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সোহেল ছাড়াও বক্তব্য দেন সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ফরিদ উদ্দিন মাসুদ সোহেল, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুশতাক আহমেদ শাহীনসহ স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।

পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে চান্দিনার বর্ষীয়ান নেতা অধ্যাপক আলী আশরাফ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে চান্দিনার বর্ষীয়ান নেতা অধ্যাপক আলী আশরাফ

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আলী আশরাফের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০২১ সালের ৩০ জুলাই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

১৯৪৭ সালে চান্দিনা উপজেলার গল্লাই গ্রামে জন্ম নেওয়া আলী আশরাফ পেশাজীবনের শুরুতে কলেজে অধ্যাপনা করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও কুমিল্লা-৭ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে তিনি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

দলীয়ভাবে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চান্দিনার শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অধ্যাপক আলী আশরাফ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে, এক ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।

দেখা মাত্রই শেয়ার না করে একটু ভাবুন!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দেখা মাত্রই শেয়ার না করে একটু ভাবুন!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্ক্যান্ডাল ও অশালীন ভিডিও ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট, ব্যবসায়ী ও সংগঠক আবুজর গিফারী।

নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্ক্যান্ডাল কিংবা অশালীন ভিডিও যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনেককে শেয়ার করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ—সব বয়সী মানুষের সামনে চলে আসছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আবুজর গিফারী বলেন, “একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের মনে রাখা দরকার, অন্যের দোষ কিংবা গোপন বিষয় ছড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়।”

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নূরের একটি আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিশ্চয় যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” —সুরা আন-নূর, আয়াত ১৯।

তিনি আরও বলেন, ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় না নেমে প্রত্যেকের উচিত নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়া। কারও ব্যক্তিগত ভিডিও কিংবা স্ক্যান্ডাল শেয়ার না করে তা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।

শেয়ার করার আগে সবাইকে একবার ভাবার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই পোস্ট কিংবা ভিডিওটি শেয়ার করার মাধ্যমে আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন, নাকি সমাজে অশ্লীলতা ও ক্ষতি আরও ছড়িয়ে পড়বে?”

পোস্টের শেষাংশে আবুজর গিফারী বলেন, “সব সময় অন্যের খারাপ চরিত্রকে বড় করে প্রচার না করে, নিজের চরিত্র ও আচরণের দিকে একটু খেয়াল করুন।”

বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়ায় সচেতন আলেম সমাজের ১২ দফা প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়ায় সচেতন আলেম সমাজের ১২ দফা প্রস্তাব

কওমী মাদরাসায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এবং আল-হাইআতুল উলয়ার কাছে ১২ দফা সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছে ‘সচেতন আলেম সমাজ’।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আল-হাইআতুল উলয়ার প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাবনাগুলো হস্তান্তর করা হয়। এতে কওমী মাদরাসাকে ঘিরে অপপ্রচার, গুজব, সম্পাদিত ভিডিওভিত্তিক ডিজিটাল মব এবং একপেশে মিডিয়া ট্রায়াল প্রতিরোধে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও ডাটাবেজ তৈরি, শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষাগত ও চারিত্রিক মানদণ্ড নির্ধারণ, অপরাধে দোষী শিক্ষকদের ব্ল্যাকলিস্ট করা, নিয়মিত মাদরাসা পরিদর্শন এবং নিবন্ধন নবায়ন ব্যবস্থা চালু।

এ ছাড়া শিশু সুরক্ষা নীতিমালা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল, ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন, রিসার্চ সেন্টার, সিসিটিভি স্থাপন, প্রেস উইং ও সাইবার মনিটরিং টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ভিত্তিহীন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদরাসায় কোনো অপরাধ ঘটলে তা গোপন না করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রস্তাব পেশকারী প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কওমী মাদরাসাগুলোর জবাবদিহিতা বাড়বে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং পরিকল্পিত অপপ্রচার প্রতিরোধ করা সহজ হবে।