বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনিয়ন্ত্রিত মাদ্রাসাগুলোকে নিবন্ধন ও তদারকির আওতায় আনার দাবি ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকেরুল্লার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
অনিয়ন্ত্রিত মাদ্রাসাগুলোকে নিবন্ধন ও তদারকির আওতায় আনার দাবি ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকেরুল্লার

ফ্ল্যাট, বাসাবাড়ি, অলিগলি এবং বিভিন্ন এলাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা মাদ্রাসা ও মহিলা মাদ্রাসাগুলোকে নিবন্ধন, নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং কার্যকর সরকারি তদারকির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকেরুল্লা।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে সামাজিকভাবে প্রশ্ন তোলা এখন জরুরি ও আবশ্যক হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রকে বাধ্য করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকেরুল্লা বলেন, যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য নিবন্ধন, নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম, যোগ্য শিক্ষক, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, পরিচালনায় স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত সরকারি বা অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের তদারকি থাকা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।

তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অনেক মাদ্রাসা কার্যকর মনিটরিং ও জবাবদিহিতা ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছামতো পরিচালিত হচ্ছে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয় বলেই কোনো প্রতিষ্ঠান আইন, জবাবদিহিতা ও মনিটরিংয়ের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। বরং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ আরও বেশি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকে।

রাষ্ট্র এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, তদারকি ও শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে সেগুলো পরিচালনার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকেরুল্লা আরও বলেন, এটি মাদ্রাসা শিক্ষা বা ধর্মীয় শিক্ষার বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নয়। বরং সার্বিকভাবে মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করতে অনুমোদনহীন ও নিয়ন্ত্রণহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ করে মেয়ে ও শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষার মান এবং সমাজ ও ধর্মের বৃহত্তর স্বার্থে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে চান্দিনার বর্ষীয়ান নেতা অধ্যাপক আলী আশরাফ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে চান্দিনার বর্ষীয়ান নেতা অধ্যাপক আলী আশরাফ

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আলী আশরাফের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০২১ সালের ৩০ জুলাই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

১৯৪৭ সালে চান্দিনা উপজেলার গল্লাই গ্রামে জন্ম নেওয়া আলী আশরাফ পেশাজীবনের শুরুতে কলেজে অধ্যাপনা করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও কুমিল্লা-৭ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে তিনি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

দলীয়ভাবে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চান্দিনার শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অধ্যাপক আলী আশরাফ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে, এক ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।

দেখা মাত্রই শেয়ার না করে একটু ভাবুন!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দেখা মাত্রই শেয়ার না করে একটু ভাবুন!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্ক্যান্ডাল ও অশালীন ভিডিও ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট, ব্যবসায়ী ও সংগঠক আবুজর গিফারী।

নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্ক্যান্ডাল কিংবা অশালীন ভিডিও যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনেককে শেয়ার করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ—সব বয়সী মানুষের সামনে চলে আসছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আবুজর গিফারী বলেন, “একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের মনে রাখা দরকার, অন্যের দোষ কিংবা গোপন বিষয় ছড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়।”

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নূরের একটি আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিশ্চয় যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” —সুরা আন-নূর, আয়াত ১৯।

তিনি আরও বলেন, ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় না নেমে প্রত্যেকের উচিত নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়া। কারও ব্যক্তিগত ভিডিও কিংবা স্ক্যান্ডাল শেয়ার না করে তা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।

শেয়ার করার আগে সবাইকে একবার ভাবার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই পোস্ট কিংবা ভিডিওটি শেয়ার করার মাধ্যমে আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন, নাকি সমাজে অশ্লীলতা ও ক্ষতি আরও ছড়িয়ে পড়বে?”

পোস্টের শেষাংশে আবুজর গিফারী বলেন, “সব সময় অন্যের খারাপ চরিত্রকে বড় করে প্রচার না করে, নিজের চরিত্র ও আচরণের দিকে একটু খেয়াল করুন।”

বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়ায় সচেতন আলেম সমাজের ১২ দফা প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়ায় সচেতন আলেম সমাজের ১২ দফা প্রস্তাব

কওমী মাদরাসায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এবং আল-হাইআতুল উলয়ার কাছে ১২ দফা সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছে ‘সচেতন আলেম সমাজ’।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আল-হাইআতুল উলয়ার প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাবনাগুলো হস্তান্তর করা হয়। এতে কওমী মাদরাসাকে ঘিরে অপপ্রচার, গুজব, সম্পাদিত ভিডিওভিত্তিক ডিজিটাল মব এবং একপেশে মিডিয়া ট্রায়াল প্রতিরোধে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও ডাটাবেজ তৈরি, শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষাগত ও চারিত্রিক মানদণ্ড নির্ধারণ, অপরাধে দোষী শিক্ষকদের ব্ল্যাকলিস্ট করা, নিয়মিত মাদরাসা পরিদর্শন এবং নিবন্ধন নবায়ন ব্যবস্থা চালু।

এ ছাড়া শিশু সুরক্ষা নীতিমালা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল, ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন, রিসার্চ সেন্টার, সিসিটিভি স্থাপন, প্রেস উইং ও সাইবার মনিটরিং টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ভিত্তিহীন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদরাসায় কোনো অপরাধ ঘটলে তা গোপন না করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রস্তাব পেশকারী প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কওমী মাদরাসাগুলোর জবাবদিহিতা বাড়বে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং পরিকল্পিত অপপ্রচার প্রতিরোধ করা সহজ হবে।