বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জ থেকে দুই মন্ত্রী হওয়ার গুঞ্জন, রাষ্ট্রপতির তালিকায় ড. ওসমান ফারুক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জ থেকে দুই মন্ত্রী হওয়ার গুঞ্জন, রাষ্ট্রপতির তালিকায় ড. ওসমান ফারুক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি যখন সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন কিশোরগঞ্জ জেলার রাজনীতিতে বইছে আনন্দের সুবাতাস। গুঞ্জন উঠেছে, অবহেলিত এই জনপদ থেকে এবার দুজন পূর্ণমন্ত্রী এবং একজন রাষ্ট্রপতি বা সমমর্যাদার দায়িত্ব পেতে পারেন। জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত নামগুলো হলো—সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল আলম। দলীয় নীতিনির্ধারণী সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে যে ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠিত হতে যাচ্ছে, সেখানে কিশোরগঞ্জের এই তিন নেতা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন।

সূত্রমতে, কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন থেকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বিজয়ী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. এম ওসমান ফারুককে নিয়ে সবচেয়ে বড় গুঞ্জনটি শোনা যাচ্ছে। তাকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবেও তার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসন থেকে ৭৪ হাজার ৬৪৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অথবা কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৫৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী মো. শরীফুল আলমকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও দলের হাইকমান্ডের বিবেচনায় রয়েছে।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে বিতর্কিত কাউকে স্থান না দেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। যারা বিগত দিনের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং যাদের সততা ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পরীক্ষিত, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সেই বিবেচনায় কিশোরগঞ্জের এই তিন নেতাই এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় এবং জোটের শরিকদের মধ্য থেকেও মন্ত্রিসভায় সদস্য নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জবাসী এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন নতুন মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।

পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে চান্দিনার বর্ষীয়ান নেতা অধ্যাপক আলী আশরাফ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণে চান্দিনার বর্ষীয়ান নেতা অধ্যাপক আলী আশরাফ

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আলী আশরাফের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০২১ সালের ৩০ জুলাই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

১৯৪৭ সালে চান্দিনা উপজেলার গল্লাই গ্রামে জন্ম নেওয়া আলী আশরাফ পেশাজীবনের শুরুতে কলেজে অধ্যাপনা করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও কুমিল্লা-৭ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে তিনি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

দলীয়ভাবে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চান্দিনার শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অধ্যাপক আলী আশরাফ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে, এক ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।

দেখা মাত্রই শেয়ার না করে একটু ভাবুন!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ
দেখা মাত্রই শেয়ার না করে একটু ভাবুন!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্ক্যান্ডাল ও অশালীন ভিডিও ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট, ব্যবসায়ী ও সংগঠক আবুজর গিফারী।

নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্ক্যান্ডাল কিংবা অশালীন ভিডিও যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনেককে শেয়ার করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ—সব বয়সী মানুষের সামনে চলে আসছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আবুজর গিফারী বলেন, “একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের মনে রাখা দরকার, অন্যের দোষ কিংবা গোপন বিষয় ছড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়।”

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নূরের একটি আয়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিশ্চয় যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” —সুরা আন-নূর, আয়াত ১৯।

তিনি আরও বলেন, ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় না নেমে প্রত্যেকের উচিত নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়া। কারও ব্যক্তিগত ভিডিও কিংবা স্ক্যান্ডাল শেয়ার না করে তা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।

শেয়ার করার আগে সবাইকে একবার ভাবার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই পোস্ট কিংবা ভিডিওটি শেয়ার করার মাধ্যমে আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন, নাকি সমাজে অশ্লীলতা ও ক্ষতি আরও ছড়িয়ে পড়বে?”

পোস্টের শেষাংশে আবুজর গিফারী বলেন, “সব সময় অন্যের খারাপ চরিত্রকে বড় করে প্রচার না করে, নিজের চরিত্র ও আচরণের দিকে একটু খেয়াল করুন।”

বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়ায় সচেতন আলেম সমাজের ১২ দফা প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়ায় সচেতন আলেম সমাজের ১২ দফা প্রস্তাব

কওমী মাদরাসায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এবং আল-হাইআতুল উলয়ার কাছে ১২ দফা সংস্কার প্রস্তাব পেশ করেছে ‘সচেতন আলেম সমাজ’।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আল-হাইআতুল উলয়ার প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাবনাগুলো হস্তান্তর করা হয়। এতে কওমী মাদরাসাকে ঘিরে অপপ্রচার, গুজব, সম্পাদিত ভিডিওভিত্তিক ডিজিটাল মব এবং একপেশে মিডিয়া ট্রায়াল প্রতিরোধে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও ডাটাবেজ তৈরি, শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষাগত ও চারিত্রিক মানদণ্ড নির্ধারণ, অপরাধে দোষী শিক্ষকদের ব্ল্যাকলিস্ট করা, নিয়মিত মাদরাসা পরিদর্শন এবং নিবন্ধন নবায়ন ব্যবস্থা চালু।

এ ছাড়া শিশু সুরক্ষা নীতিমালা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল, ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন, রিসার্চ সেন্টার, সিসিটিভি স্থাপন, প্রেস উইং ও সাইবার মনিটরিং টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ভিত্তিহীন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদরাসায় কোনো অপরাধ ঘটলে তা গোপন না করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

প্রস্তাব পেশকারী প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কওমী মাদরাসাগুলোর জবাবদিহিতা বাড়বে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং পরিকল্পিত অপপ্রচার প্রতিরোধ করা সহজ হবে।